সবুজ বাংলা ব্লগ

সবুজ বাংলা ব্লগ

ইসলাম ও জীবন

সম্পাদকীয়।

অনন্তকালব্যাপী পবিত্র সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ পালনের লক্ষ্যে সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার অনুপম আদর্শ মুবারক আলোচনা ও অনুসরণ:
আগামী বাজেটে ভ্যাটের পরিমাণই শুধু নয়; আওতাও বাড়ছে গণশোষকের প্রক্রিয়ায়।
স্বল্প আয়ের মানুষ; এমনকি একজন দিনমজুরকেও ১৫ শতাংশ হারে বাড়তি টাকা গুনতে হবে।
গণবিরোধী এই বাজেট প্রতিহত করার জন্য গণজাগরণ দরকার।
********************************************************************************
 
সব ছানা-ছিফত খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার জন্য; এমন ছানা-ছিফত যাতে তিনি সন্তুষ্ট হন। অপরিসীম, অকৃত্রিম, অগণিত পবিত্র দুরূদ শরীফ ও সালাম মুবারক নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি; এমন পবিত্র দুরূদ শরীফ ও সালাম মুবারক যা তিনি পছন্দ করেন।
আগামী অর্থবছর (২০১৬-১৭) ভ্যাট খাতকে প্রধান খাত করার পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে।
অর্থমন্ত্রী ঘোষণা দিয়েছে- আগামী ২০১৬-১৭ অর্থবছরের বাজেটে ১৫ শতাংশ ভ্যাট থাকবে।
নতুন ভ্যাট আইন অনুসারে ছোট মাপের একটি খাবারের দোকানিকেও এই হারে ভ্যাট দিতে হবে। ১০০ টাকার তরকারি ১১৫ টাকায় কিনতে হবে ক্রেতাকে।
এনবিআর সূত্রে জানা গেছে, আগামী অর্থবছরে উপজেলা, ইউনিয়ন পর্যায়ের দোকানও ভ্যাটের আওতায় আসবে। উচ্চ আয়ের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে অনলাইনে ভ্যাট আদায় বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। বিপণনকেন্দ্রে ইলেকট্রনিক ক্যাশ রেজিস্টার (ইসিআর) মেশিনের ব্যবহার বাধ্যতামূলক হবে। তৃণমূল পর্যায়ের ব্যবসায়ীদের হিসাব সংরক্ষণে আগ্রহী করতে কৌশল নির্ধারণে এনবিআরকে পদক্ষেপ নিতে অর্থমন্ত্রী নির্দেশ দিয়েছে। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ক্রেডিট কার্ডে ভ্যাট প্রদানের সুযোগ দেয়া হবে। আসছে ২০১৬-১৭ অর্থবছরের রাজস্ব বাজেট প্রস্তাবে প্রকৃত বিক্রির উপর ভ্যাট প্রদানের নিয়ম করা হবে। স্থাবর সম্পত্তি, ইজারা, অধিকার, সুবিধা অর্জন, লাইন্সেস, পারমিটসহ আমদানি, উৎপাদন, ব্যবসায়ী পর্যায়ে পণ্য ও সেবার অধিকাংশ খাতে ভ্যাট আরোপ হচ্ছে। হোটেল-রেস্তোরাঁসহ সব ধরনের খাবারের দোকান, স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত গুঁড়ো দুধ, সব ধরনের মসলা, বিস্কুট, চকোলেট, আচার, চাটনি, সস ও সব ধরনের ফলের রসের উপর নতুন ভ্যাট আরোপ করা হবে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান, ভূমি উন্নয়ন সংস্থা, সোনা, সরবরাহকারী, বিদ্যুৎ বিতরণকারী সংস্থা, অনলাইনে বিক্রি পণ্যের উপর, চেইনশপ, জমি নিবন্ধন, ইংরেজি মাধ্যমের স্কুল, বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজ ও প্রকৌশল কলেজের উপর বাড়তি ভ্যাট আরোপের সিদ্ধান্ত নিয়েছে এনবিআর।
১৫ শতাংশ হার কার্যকর হলে সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়বে এমএস রডের বাজারে। বর্তমানে ট্যারিফ মূল্যভিত্তিক ব্যবস্থায় রড কিনতে টনপ্রতি ৪১২.৫০ টাকা মূসক পরিশোধ করতে হয়। নতুন আইনে বিভিন্ন পর্যায়ে রেয়াত নেয়ার পরও বর্তমান বাজারদরে প্রতি টনে ৩ হাজার ২২৯ টাকা মূসক পরিশোধ করতে হবে। এতে টনপ্রতি এমএস রডের বাজারদর টনে ২ হাজার ৮১৬ টাকা বাড়বে বলে এনবিআর বলছে। শুধু রড নয়, নতুন মূসক আইন কার্যকর হলে নির্মাণ ব্যয়ে বড় ধরনের প্রভাব পড়ার আশঙ্কা আছে। ইট ও বালু কিনতে খরচ বাড়বে বলে দাবি করেছে ব্যবসায়ীরা। কারণ এসব ক্ষেত্রে ১৫ শতাংশ মূসক কার্যকর হবে। এর ফলে বেসরকারি নির্মাণ খাত তথা মসজিদ মাদরাসা নির্মাণের পাশাপাশি পদ্মা সেতু, মেট্রোরেলের মতো মেগা প্রকল্পের ব্যয়ও বাড়বে।
ব্র্যান্ডের দোকানগুলো থেকে পোশাক কিনতে গেলে ক্রেতাদের এখন মোট মূল্যের উপর ৪ থেকে ৫ শতাংশ মূসক দিতে হয়। ১৫ শতাংশ মূসক বসলে একটি জামার দাম ২০০০ টাকা হলে ক্রেতাকে বাড়তি ২০০ টাকা গুনতে হবে।
মূলত, নতুন মূল্য সংযোজন কর (মূসক) আইন বাস্তবায়িত হলে সাধারণ মানুষের উপর চাপ বাড়বে। বিদ্যুৎ বিলে যেমন খরচ বাড়বে, তেমনি পোশাক কিনতেও বাড়তি টাকা গুনতে হবে। এমনকি সাজগোজ করার জন্য গয়না? তাতেও বেশি মূসক দিতে হবে। উৎপাদন ও সেবা দেয়ার বিভিন্ন পর্যায়ে ব্যবসায়ীরা যে মূসক দেবে, তা শেষ পর্যন্ত ভোক্তার ঘাড়েই চাপবে।
এতদিন বাসায় তৈরি করা বিস্কুট ও কেক জাতীয় খাবারের উপর ভ্যাট ছিল না। নতুন বাজেট প্রস্তাবে এসব খাবারকে অব্যাহতির তালিকা থেকে বাদ দিয়ে ১৫ শতাংশ হারে ভ্যাট আরোপ করা হয়েছে। এর ফলে এসব খাদ্যের ভোক্তা স্বল্প আয়ের মানুষ এমনকি একজন দিনমজুরকেও ১৫ শতাংশ হারে বাড়তি টাকা গুণতে হবে। রাজধানীসহ দেশের আনাচে-কানাচে ফুটপাতে ছোট ছোট দোকানে মানুষ, লঞ্চ, বাস বা রেলস্টেশনে স্বল্প আয়ের যাত্রীরা এসব খাবার খেয়ে থাকে। এসব মানুষের কাছ থেকে ভ্যাট নেয়ার কোনো যুক্তি থাকতে পারে না। পরিবহন ব্যবস্থায় ভ্যাট বাড়ানোয় পণ্য পরিবহন ব্যয় বেড়ে যাবে। এর প্রতিক্রিয়ায়ও সব ধরনের পণ্যমূল্য বেড়ে যাবে।
ভ্যাট আরোপ, ভ্যাটের হার বাড়ানো বা নতুন ভ্যাট আইন কার্যকর হলে ভোক্তা পর্যায়ে মূল্যের চরম বিরূপ প্রতিক্রিয়া হবে। এই চাপের প্রচার উৎপাদন পর্যায়েও পড়বে। এসব কারণে খাদ্য বহির্ভূত মূল্যস্ফীতিতেও প্রতিক্রিয়া হবে। সঙ্গতকারণেই তাকে কোনোক্রমেই গণমুখী বাজেট বা গণতন্ত্রী বাজেট বলা যাবে না। বরং তা হবে মারাত্মক ও ভয়ঙ্কর গণবিরোধী, গণশোষী।
সত্যিকার অর্থে দেশের কোনো সরকারই এ যাবত একান্ত গণমুখী বাজেট দিতে পারেনি। গণতন্ত্রের কথা বললেও তারা আসলে কেউই প্রকৃতভাবে গণমানুষের সরকার হতে পারেনি। কিন্তু গণমানুষ গণতন্ত্রের নামে অব্যাহতভাবে ধোঁকা খেয়েও গণসচেতন হচ্ছে না। গণতন্ত্রের দোহাইকে উপলব্ধি করেছে। গণতন্ত্রকে পরিহার করছে না। অথচ নিতান্ত আত্মবোধ বা সচেতনতা থাকলেও মুসলমান হিসেবে ইসলামের দৃষ্টিতে কথিত গণতন্ত্রকে পরিহার করে খিলাফত আলা মিনহাজিন নুবুওওয়ার জন্য উজ্জীবিত হওয়া উচিত।
মূলত, এসব অনুভূতি ও দায়িত্ববোধ আসে পবিত্র ঈমান ও পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনাদের অনুভূতি ও প্রজ্ঞা থেকে। আর তার জন্য চাই নেক ছোহবত তথা মুবারক ফয়েয, তাওয়াজ্জুহ।
যামানার ইমাম ও মুজতাহিদ, যামানার মুজাদ্দিদ, মুজাদ্দিদে আ’যম আলাইহিস সালাম উনার নেক ছোহবতেই সে মহান ও অমূল্য নিয়ামত হাছিল সম্ভব। ইতিহাসে তিনিই সর্বপ্রথম দিচ্ছেন অনন্তকালব্যাপী পবিত্র সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ পালন করার মহামহিম নিয়ামত মুবারক। সুবহানাল্লাহ!
খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাদেরকে তা নছীব করুন। (আমীন)

0 টি মন্তব্য

এখনো কোনো মন্তব্য নেই।

মন্তব্য করতে হলে লগ ইন করুন।