সবুজ বাংলা ব্লগ

সবুজ বাংলা ব্লগ

ইসলাম ও জীবন

সম্পাদকীয়।

অনন্তকালব্যাপী পবিত্র সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ পালনের লক্ষ্যে সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার অনুপম আদর্শ মুবারক আলোচনা ও অনুসরণ:
১ লাখ কোটি টাকার ঋণ খেলাপী রাজনৈতিক প্রভাবশালী ও বিত্তশালীর বহাল তবিয়ত।
এবং তার বিপরীতে ৫৮২ কোটি টাকার সার্টিফিকেট মামলার আসামী ২ লাখ কৃষকের হয়রানি।
**********************************************************************************
সব ছানা-ছিফত খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার জন্য; এমন ছানা-ছিফত যাতে তিনি সন্তুষ্ট হন। অপরিসীম, অকৃত্রিম, অগণিত পবিত্র দুরূদ শরীফ ও সালাম মুবারক নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি; এমন পবিত্র দুরূদ শরীফ ও সালাম মুবারক যা তিনি পছন্দ করেন।
ব্যাংকিং খাতে ভয়াবহভাবে বেড়ে গেছে খেলাপি ঋণের পরিমাণ। সংসদে প্রদত্ত তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ৫৬ হাজার কোটি টাকা। তবে এ হিসাবে বড় ধরনের জালিয়াতি রয়েছে। ২০০২ সাল থেকে ব্যাংকগুলো তাদের মন্দ ঋণগুলো অবলোপন করে উদ্বৃত্ত পত্র (ইধষধহপব ঝযববঃ) তৈরি করছে। উদ্বৃত্ত পত্র দেখে ব্যাংকের আসল আর্থিক অবস্থা বোঝার উপায় নেই। বলা বাহুল্য, ২০০২ সাল থেকে এ-যাবৎ ৩৬ হাজার কোটি টাকা অবলোপন করা হয়েছে। এ টাকার উপর হিসাব করলে বাস্তবে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ১ লাখ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে। অর্থাৎ কিছু সংখ্যক রাজনৈতিক প্রভাবশালী জালিয়াতকারী জনগণের অর্থ আত্মসাৎ করে মহা আয়েশে দিন কাটাচ্ছে। বিদেশে হাজার হাজার কোটি টাকা পাচার করছে।
আর অভিনব পদ্ধতিতে দায় থেকে পার পেয়ে যাচ্ছে। ব্যাংকারদের যোগসাজশে ভুয়া ঋণ সৃষ্টি করে ঋণ সমন্বয় করার পাশাপাশি খেলাপিরা উচ্চ আদালতের শরণাপন্ন হচ্ছে। তারা আদালতে রিট করে ঋণখেলাপির তালিকা থেকে নিজেদের নাম স্থাগিত করিয়ে নিচ্ছে। এ সুবাদে তারা ঋণখেলাপি হওয়া সত্ত্বেও বাংলাদেশ ব্যাংকের ঋণ নিয়মাচারকে পাশ কাটিয়ে অন্য ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণ গ্রহণের সুযোগ নিচ্ছে। শুধু এটিই নয়, শত শত, হাজার হাজার কোটি টাকার ঋণ পরিশোধের দায় থেকেও তারা নিজেদের মুক্ত রাখতে সক্ষম হচ্ছে। কিন্তু মামলার জালে আটকা পড়েছে সারাদেশের ২ লাখ কৃষক।
ব্যাংক খাত থেকে জালিয়াতির মাধ্যমে হাজার হাজার কোটি টাকা লুটেপুটে নিয়ে হলমার্ক, বিসমিল্লাহ গ্রুপ পার পেয়ে গেলেও জনপ্রতি গড়ে ৩০ হাজার টাকা ঋণের জন্য সারা দেশের প্রায় ২ লাখ কৃষকের নামে মামলা করে দিয়েছে রাষ্ট্র মালিকানাধীন ছয়টি ব্যাংক। এদের মধ্যে আবার ওয়ারেন্ট জারি হয়েছে ১২ হাজার ৫৩১ জন কৃষকের নামে, যারা অর্থ পরিশোধ করতে না পেরে গ্রেফতারের ভয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। রাষ্ট্র মালিকানাধীন সোনালী, জনতা, অগ্রণী, রূপালী এই চার বাণিজ্যিক ব্যাংক এবং বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক (বিকেবি) ও রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক (রাকাব) এই মামলাগুলো দায়ের করেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তৈরি করা এক হালনাগাদ প্রতিবেদনে কৃষি ঋণ সার্টিফিকেট মামলার এই তথ্য দেয়া হয়েছে। চলতি বছরের মার্চ পর্যন্ত দেয়া তথ্যে দেখা যায়, সারা দেশের মোট ১ লাখ ৯৪ হাজার ১৭৫ জন কৃষকের নামে সার্টিফিকেট মামলা চলছে। ১৯৯১ সাল থেকে গত ২৫ বছরে এই মামলাগুলো দায়ের হয়েছে। মামলার হিসাব অনুযায়ী প্রতি কৃষকের কাছে ব্যাংকগুলোর গড় পাওনার পরিমাণ মাত্র ৩০ হাজার টাকা। অর্থাৎ সব মিলিয়ে ১ লাখ ৯৪ হাজার ১৭৫ জন কৃষকের কাছে ব্যাংকগুলোর মোট পাওনা দাঁড়িয়েছে ৫৮২ কোটি টাকা।
উল্লেখ্য, কৃষিঋণ এক বছর মেয়াদোত্তীর্ণ হলে তাকে খেলাপি বলা হয়। কৃষিঋণ তিন বছর বকেয়া থাকলে গ্রহীতার বিরুদ্ধে মামলা করার আইনি বাধ্যবাধকতা রয়েছে। তবে অনেকের মতে, কৃষকদের বিরুদ্ধে এই ধরনের সার্টিফিকেট মামলা করার আইন থাকা উচিত নয়। হাজার কোটি টাকা কোনো ব্যক্তি বা গ্রুপ আটকে রাখলেও তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয় না ব্যাংক। অথচ মাত্র ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকার জন্য কৃষকদের পুলিশ ধরে নিয়ে যায়। কৃষি ও কৃষকের উন্নয়নে তাদের ঋণ মওকুফ করা উচিত। তাতে করে কোনো জমি অনাবাদি থাকবে না। বরং সবাই স্বেচ্ছায় আরো উৎসাহে রক্ত পানি করা শ্রম দিয়ে এগিয়ে যাবে বাংলাদেশকে কৃষিতে স্বয়ংসম্পূর্ণ করার লক্ষ্যে।
কৃষি উপকরণের মূল্য বৃদ্ধি, কৃষি শ্রমিকের দুষ্প্রাপ্যতা, উৎপাদন খরচ জোগাড় ইত্যাদি নানা খরচ ও নানা সমস্যায় কৃষকরা খুবই বিচলিত। এমন অবস্থায় যদি কৃষকদের বিরুদ্ধে ঋণ আদায়ের জন্য সার্টিফিকেট মামলা হয় তখনতো কৃষকদের মাথায় হাত।
কৃষকদের অন্যের জমি দেখিয়ে ঋণ নেয়ার সুযোগ নেই। নিজ সম্পত্তির দলিলপত্র জমা রেখে কৃষকরা ঋণ নিয়েছেন। দেশে নানা প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে ফসল নষ্ট হলে কৃষকরা দুশ্চিন্তায় পড়ে। তাছাড়া গরীব কৃষকদের অভাব-অনটনতো লেগেই আছে। এসব কারণে কৃষকরা ঋণের টাকা সময়মতো পরিশোধ করতে পারে না। এ জন্য কৃষকদের ঋণের ব্যাপারে সরকারি নীতিমালায় যথেষ্ট প্রশ্রয় থাকা উচিত। কাগজে কলমে হয়তো অনেক কথা লেখা থাকে কিন্তু বাস্তবিক সত্যটি হলো কৃষকরা ঋণ নেয়ার সময় প্রতি হাজারে একশ’ টাকা করে ঘুষ দিতে বাধ্য হয়। মাঝে আবার মধ্যস্থতাকারী যাকে দালাল বলে- তাদের ভাগও একশ টাকা। কাজেই কৃষক ঋণের টাকা পাচ্ছে হাজারে একশ টাকা কম আর সুদ গুণতে হয় হাজারের হিসাবে। এ বিষয়টি সরকার কিংবা কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক কতটুকু অবগত আছেন সেটাই জানার বিষয়। যখন সামান্য ঋণের টাকার জন্য গরীব কৃষকদের উপর সার্টিফিকেট মামলা হয় তখন এটাকে সরকারেরই দায়িত্ব কৃষকের চাওয়া ঋণের সব টাকা যথাযথ পাচ্ছে কিনা তা দেখভাল করা। সভা সমাবেশে বক্তাদের অভিমত কৃষক অন্তঃপ্রাণ ছটফটিয়ে উঠতে দেখা যাবে কিন্তু বাস্তবিক চিত্র বাস্তবিকই ভিন্ন।
সার্টিফিকেট মামলা দায়ের করে কৃষকদের হয়রানি না করার জন্য বিভিন্ন মহল থেকে এইসব মামলা প্রত্যাহারের জন্য বলা হয়েছে। ফসল উৎপাদন করে কৃষকরা ন্যায্যমূল্য পায় না। এ বিষয়টি সরকার ও রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কগুলোকে বিবেচনায় রাখতে হবে। আর যেখানে হাজার হাজার কোটি টাকার ব্যাঙ্ক কেলেঙ্কারীর হোতা হলমার্ককে সরকারের কোন মন্ত্রী ঋণ দেয়ার জন্য সুপারিশ করে তখন কৃষকদের বিরুদ্ধে সার্টিফিকেট মামলা দায়ের কোনো মতেই ন্যায়সঙ্গত নয়। কৃষকদের মামলা দিয়ে টাকা আদায়ের পূর্বে ঋণখেলাপীদের হাজার হাজার কোটি টাকা আদায়ের গৃহীত ব্যবস্থাদি জাতি এখন দেখতে চায়।
মূলত, এসব অনুভূতি ও দায়িত্ববোধ আসে পবিত্র ঈমান ও পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনাদের অনুভূতি ও প্রজ্ঞা থেকে। আর তার জন্য চাই নেক ছোহবত তথা মুবারক ফয়েয, তাওয়াজ্জুহ।
যামানার ইমাম ও মুজতাহিদ, যামানার মুজাদ্দিদ, মুজাদ্দিদে আ’যম আলাইহিস সালাম উনার নেক ছোহবতেই সে মহান ও অমূল্য নিয়ামত হাছিল সম্ভব। ইতিহাসে তিনিই সর্বপ্রথম দিচ্ছেন অনন্তকালব্যাপী পবিত্র সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ পালন করার মহামহিম নিয়ামত মুবারক। সুবহানাল্লাহ!
খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাদেরকে তা নছীব করুন। (আমীন)

0 টি মন্তব্য

এখনো কোনো মন্তব্য নেই।

মন্তব্য করতে হলে লগ ইন করুন।