অনন্তকালব্যাপী পবিত্র সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ পালনের লক্ষ্যে সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার অনুপম আদর্শ মুবারক আলোচনা ও অনুসরণ:
দেশের একদিকে তীব্র তাপদাহ, অন্যদিকে অকাল বন্যা।
মূলত, পবিত্র যাকাত সঠিকভাবে আদায় না করায় দেশবাসী আক্রান্ত হচ্ছে অতিবৃষ্টি, অনাবৃষ্টি, খরা, বন্যাসহ নানা দুর্যোগে।
সঠিকভাবে পবিত্র যাকাত আদায় এবং সঠিক জায়গায় পৌঁছানোই এসব দুর্যোগ থেকে পরিত্রাণের একমাত্র উপায়।
***************************************************************************
সব ছানা-ছিফত খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার জন্য; এমন ছানা-ছিফত যাতে তিনি সন্তুষ্ট হন। অপরিসীম, অকৃত্রিম, অগণিত পবিত্র দুরূদ শরীফ ও সালাম মুবারক নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি; এমন পবিত্র দুরূদ শরীফ ও সালাম মুবারক, যা তিনি পছন্দ করেন।
রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে তীব্র তাপদাহ বইছে। আবহাওয়াবিদরা বলছে, চলতি সপ্তাহেও বৃষ্টির সম্ভাবনা কম। ফলে গরমও কমার কোনো লক্ষণ নেই। পশ্চিম ও দক্ষিণাঞ্চলে গরমে মানুষের অবস্থা ভয়াবহ কাহিল। স্বাভাবিক কাজকর্ম করতে পারছে না কেউই। দিনের বেলা রোদের কারণে বাসা-বাড়ি থেকে বের হওয়া যাচ্ছে না। অফিসগামী, মানুষ, শ্রমিক, স্কুলগামী শিক্ষার্থী এবং শিশুরা গরম ও তীব্র তাপদাহে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে। অতিরিক্ত গরমে শিশুরা সবচেয়ে অস্বস্তি বোধ করছে। হাসপাতালে রোগীরা কষ্ট পাচ্ছে বেশি। বাসের যাত্রীদেরও একই অবস্থা।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, চলতি মাসের ৭ তারিখে রাজধানীর তাপমাত্রা ছিল ৩১ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস, পরদিন এ তাপমাত্রা ভেঙ্গে দাঁড়ায় ৩৪ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। মৌসুমী বায়ু প্রবাহিত হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত আবহাওয়ার এই অবস্থা চলবে বলে আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস থেকে জানা গেছে।
উল্লেখ্য, সারাদেশে যখন তীব্র তাপদাহ চলছে, তখন সিলেট অঞ্চলে হচ্ছে মুষলধারে বৃষ্টি, আবার ঝড়-বজ্রপাত। উজানে ভারী বৃষ্টি হওয়ায় নদীতেও ঢল নামছে। পাহাড়ি ঢলে অকাল বন্যায় তলিয়ে যাচ্ছে হাওড়ের ফসল। ঘন ঘন বজ্রপাতে নিরবচ্ছিন্ন বৈদ্যুতিক সরবরাহ বিঘিœত হচ্ছে। উজানের ভারত থেকে আসা পাহাড়ি ঢলে প্লাবিত হয়েছে সিলেটের অনেক হাওড়। তলিয়ে গেছে বোরো ধান। এখন যদি রোদের কারণে বন্যার পানি কমেও যায়, তবু অনেক ফসল পচে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
প্রসঙ্গত, এই যে প্রচ- খরা এবং এই অকাল বন্যা। এক্ষেত্রে রাষ্ট্রের অসহায়ত্ব স্পষ্ট ফুটে উঠেছে। কিন্তু রাষ্ট্রযন্ত্রের আশ্রয় এখন কে দেবে? এমন অথর্ব রাষ্ট্রের কাছে আমাদের সামগ্রিক নিবেদন কিভাবে হতে পারে?
লেখাবাহুল্য, ব্যক্তির শেষ আশ্রয় যেমন ধর্ম বা দ্বীন, তেমনি রাষ্ট্রেরও শেষ আশ্রয় ধর্ম বা দ্বীন। আজকে রাষ্ট্রযন্ত্র প্রচ- খরা বা অকাল বন্যা ও তার প্রতিকার ব্যক্ত করতে না পারলেও পবিত্র দ্বীন ইসলাম তা ব্যক্ত করেছে।
পবিত্র কুরআন শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে, “যমীনে এবং পানিতে যত ফিতনা-ফাসাদ সব মানুষের হাতের কামাই।”
বিষয়টি আরো স্পষ্ট করে পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বলা আছে, “যতক্ষণ পর্যন্ত মানুষ যাকাত ঠিকমতো দিবে না, ততক্ষণ পর্যন্ত বন্যা এবং খরায় তারা কষ্ট পাবে।”
বলাবাহুল্য, আমাদের দেশে একইসাথে এখন চলছে বন্যা এবং খরা। ঠিকভাবে যাকাত না দেয়াই যে এর কারণ, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। আর যাকাত সঠিকভাবে না দেয়ার কারণে যে ক্ষতি হয়, তার একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।
প্রাপ্ত তথ্যে জানা গেছে, ৬ বছরে দেশের আর্থিক ক্ষতি হয়েছে প্রায় সাড়ে ১৮ হাজার কোটি টাকা। ২০০৯ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত খরা, বন্যাসহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে মূলত কৃষি খাতে এ ক্ষতি হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১৩ লাখেরও বেশি শিশু অসুস্থ হয়ে পড়েছে। এছাড়া শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে বলে জরিপে উঠে এসেছে।
মূলত, সঠিকভাবে যদি পবিত্র যাকাত আদায় করা হয় এবং সঠিক জায়গায় পবিত্র যাকাত পৌঁছানো হয়, তাহলে অতিবৃষ্টি-অনাবৃষ্টি অথবা বন্যা বা খরা কোনোটাই আমাদেরকে আক্রান্ত করবে না, সব ফসলই আমরা পরিপূর্ণভাবে পাবো। সাথে রাষ্ট্রধর্ম পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার মর্যাদাও যথাযথ দিতে পারবো। শতকরা ৯৮ ভাগ জনগোষ্ঠী মুসলমানের এদেশের সরকারের এক্ষেত্রে স্বতঃস্ফূর্তভাবে এগিয়ে আসা উচিত। মুসলিম জনগোষ্ঠীরও এই আহ্বান সমস্বরে সরকারের কাছে পেশ করা উচিত।
মূলত, এসব অনুভূতি ও দায়িত্ববোধ আসে পবিত্র সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ অনন্তকালব্যাপী পালন করার ইলম ও জজবা থেকে। আর তার জন্য চাই নেক ছোহবত তথা মুবারক ফয়েয-তাওয়াজ্জুহ।
যামানার ইমাম ও মুজতাহিদ, যামানার মুজাদ্দিদ, মুজাদ্দিদে আ’যম আলাইহিস সালাম উনার নেক ছোহবত মুবারকেই কেবলমাত্র সে মহান ও অমূল্য নিয়ামত হাছিল সম্ভব। আর ইতিহাসে তিনিই সর্বপ্রথম দিচ্ছেন অনন্তকালব্যাপী পবিত্র সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ পালন করার মহামহিম নিয়ামত মুবারক। সুবহানাল্লাহ!
খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাদেরকে তা নছীব করুন। (আমীন)
0 টি মন্তব্য
এখনো কোনো মন্তব্য নেই।
মন্তব্য করতে হলে লগ ইন করুন।