সবুজ বাংলা ব্লগ

সবুজ বাংলা ব্লগ

ইসলাম ও জীবন

সম্পাদকীয়।

অনন্তকালব্যাপী পবিত্র সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ পালনের লক্ষ্যে সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার অনুপম আদর্শ মুবারক আলোচনা ও অনুসরণ-
রেলক্রসিংয়ে গেটম্যানের গাফলতিতে অথবা গেটম্যানহীন রেলক্রসিংয়ে দুর্ঘটনা ঘটছে অহরহ।
রেলক্রসিংগুলো যেন মৃত্যু ফাঁদ। এর দিকে সরকারের আশু নজর দেয়া দরকার।
********************************************************************************
সমস্ত প্রশংসা মুবারক খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার জন্য; যিনি সকল সার্বভৌম ক্ষমতার মালিক। সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নবী আলাইহিমুস সালাম উনাদের নবী, রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি অফুরন্ত দুরূদ শরীফ ও সালাম মুবারক।
সারা দেশে এখন রেলক্রসিংয়ের সংখ্যা দুই হাজার ৫৪১। এর মধ্যে মাত্র ৩৭১টি রেলক্রসিংয়ে দুর্ঘটনা প্রতিরোধে প্রতিবন্ধক ও প্রহরী (গেটম্যান) আছে। বাকি দুই হাজার ১৭০টি রেলক্রসিং অরক্ষিত, সবসময় খোলা থাকে। কিছু ক্রসিংয়ে নামমাত্র প্রতিবন্ধক থাকলেও সেগুলো দেখার মতো কেউ নেই।
রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ রেলক্রসিংগুলোকে দুই শ্রেণীতে ভাগ করেছে। এগুলো হলো স্বীকৃত ও অস্বীকৃত বা অবৈধ। স্বীকৃত ক্রসিং এক হাজার ৪১৩টি। আর অস্বীকৃত এক হাজার ১২৮। সরকারের বিভিন্ন বিভাগ রেললাইনের উপর দিয়ে সড়ক তৈরির সময় রেলওয়ে কর্তৃপক্ষকে অবহিত না করে যে ক্রসিংয়ের সৃষ্টি করেছে, সেটাকেই অস্বীকৃত বলা হয়। অবশ্য রেলওয়ের স্বীকৃত রেলক্রসিংয়েরও ৭৪ শতাংশের কোনো প্রহরী নেই।
অরক্ষিত রেলক্রসিংয়ে সাইনবোর্ড টাঙিয়ে দায় সেরেছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। এসব সাইনবোর্ডের ভাষা অনেকটা এ রকম: ‘এখানে কোনো গেইটম্যান নাই। দেখিয়া-শুনিয়া চলিবেন’।
কিছু সাইনবোর্ডে লেখা রয়েছে: ‘এখানে কোনো গেইটম্যান নাই। পথচারী ও সকল যানবাহন চালক নিজ দায়িত্বে পারাপার করিবেন এবং যেকোনো দুর্ঘটনার জন্য ক্ষতিপূরণ দিতে নিজেই বাধ্য থাকিবেন’।
অথচ রেলওয়ের আইনে বলা হয়েছে- রেললাইন দিয়ে সড়ক করতে হলে আগে আবেদন করতে হয়। এরপর গেটম্যানের আট বছরের বেতন, অন্যান্য অবকাঠামো নির্মাণের অর্থ দিতে হয়। কিন্তু বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই সেটা হচ্ছে না। এ ধরনের ক্রসিংগুলোকে অবৈধ ঘোষণা করে রেলওয়ে আর কোনো দায় নেয় না। সরকারের বিভাগগুলোর মধ্যে কোনো সমন্বিত উদ্যোগ নেই। চলতি ২০১৪ সালের শুরুতে একটি আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা শেষ হয় সিদ্ধান্ত ছাড়াই।
রেলওয়ে সূত্র জানায়, অবৈধ এক হাজার ১২৮টি গেটের মধ্যে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরেরই সবচেয়ে বেশি, ৪৬০টি। এরপর ইউনিয়ন পরিষদের ৫৪৮টি। এছাড়া অবৈধ গেট রয়েছে সওজের, পৌরসভা, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের, বেনাপোল বন্দর কর্তৃপক্ষের। ব্যক্তিগত প্রতিষ্ঠান অর্থাৎ ব্যক্তিগত কলকারখানার সামনে রাস্তা করে ঝুঁকিপূর্ণ রেলক্রসিং তৈরি হয়েছে অন্তত ১৭ স্থানে।
অথচ ট্রেন লাইন তো সুরক্ষিত থাকার কথা। পাশাপাশি উল্লেখ্য রেল ক্রসিংয়ে দুর্ঘটনা এড়ানোর জন্য সিগনালিং ব্যবস্থা রয়েছে। কিন্তু সমস্যা এ সিগনালিংয়েই। বেশিরভাগ দুর্ঘটনাই ঘটছে সিগন্যালিং ব্যবস্থার ত্রুটির কারণে। আমাদের দেশের রেল যোগাযোগ এখনো নির্ভরশীল সেকেলে ম্যানুয়াল ও সেমি ম্যানুয়াল সিগন্যালিং ব্যবস্থার উপর, যা বর্তমানে অচল। প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, দেশে বর্তমানে ৪০ শতাংশ রেলওয়ে সিগন্যালিং সিস্টেম ম্যানুয়াল, ৪৩ শতাংশ সেমি ম্যানুয়াল এবং বাকি নগণ্য অংশ হলো রিলে-ইন্টারলকিং এবং কম্পিউটার নিয়ন্ত্রিত আধুনিক প্রযুক্তি নির্ভর। রেলওয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত ২০১৩ সালে সংঘটিত ১৮ শতাংশ দুর্ঘটনার জন্য দায়ী মানব নিয়ন্ত্রিত সিগন্যালিং ব্যবস্থার ব্যর্থতা। ম্যানুয়াল ব্যবস্থা মূলত ব্যক্তির উপর নির্ভরশীল। কিন্তু এদেশের বেশিরভাগ রেলক্রসিংই অরক্ষিত। সিগন্যাল আছে তো, লোকবল নেই। থাকলেও দায়িত্বশীল নয়। আছে কলকব্জার সমস্যা। রেল ব্যবস্থায় ব্যবহৃত কলকব্জাগুলোর বয়স ৬০-৭০ বছর। এগুলোর মেয়াদ পেরিয়ে গেছে বহু আগে। তারপর রয়েছে লোহা চোরদের দৌরাত্ম্য। এ সবকিছু রেলকে করেছে আরো বিপন্ন ও ঝুঁকিপূর্ণ। বর্তমানে নগরাঞ্চলে সড়ক পথের ট্রাফিক জ্যাম রেললাইন ও ক্রসিংগুলোকে আরো দুর্ঘটনাপ্রবণ করে তুলছে। এ অবস্থায় রেল ক্রসিংগুলো হয়ে উঠছে একেকটা মৃত্যুফাঁদ। অস্বীকার করার উপায় নেই- দেশের পরিবহন ব্যবস্থায় রেলযোগাযোগের একটা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। বিগত কয়েক দশকে দেশে সড়ক ব্যবস্থার উন্নতি সাধিত হয়েছে, সড়ক যোগাযোগ দ্রুততর হয়েছে। তাই বলে ভাববার সুযোগ নেই রেলের ভূমিকা গৌণ হয়ে গেছে। বরং তুলনামূলকভাবে সুলভ ও নিরাপদ পণ্য ও জনপরিবহন হিসেবে পরীক্ষিত রেলের উপর গুরুত্ব দিলে বরং সড়কের উপর চাপ কমতো, কমতো দুর্ঘটনাও। সঙ্গতকারণেই সরকারের উচিত রেলের উন্নয়নে বিশেষ মনোযোগী হওয়া। রেলকে সচল ও নিরাপদ করতে জরুরী ভিত্তিতে যা করতে হবে তা হলো সেকেলে অচল সিগন্যালিং ব্যবস্থা পরিবর্তন করে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থা চালু করা। আর যে পর্যন্ত সেটা করা সম্ভব না হচ্ছে ততোদিন প্রচলিত সিগন্যালিং ব্যবস্থায়ই জনবল ও মনিটরিং বাড়ানো এবং ক্রসিংগুলোকে যথাসম্ভব নিরাপদ রাখা।
মূলত, এসব অনুভূতি ও দায়িত্ববোধ আসে পবিত্র সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ অনন্তকালব্যাপী পালন উনার ইলম ও জজবা থেকে। আর তার জন্য চাই নেক ছোহবত তথা মুবারক ফয়েয-তাওয়াজ্জুহ।
যামানার ইমাম ও মুজতাহিদ, যামানার মুজাদ্দিদ, মুজাদ্দিদে আ’যম আলাইহিস সালাম উনার নেক ছোহবত মুবারকেই কেবলমাত্র সে মহান ও অমূল্য নিয়ামত হাছিল সম্ভব। আর ইতিহাসে তিনিই সর্বপ্রথম দিচ্ছেন অনন্তকালব্যাপী পবিত্র সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ উনার মহামহিম নিয়ামত মুবারক। সুবহানাল্লাহ!
খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাদেরকে তা নছীব করুন। (আমীন)

0 টি মন্তব্য

এখনো কোনো মন্তব্য নেই।

মন্তব্য করতে হলে লগ ইন করুন।