সবুজ বাংলা ব্লগ

সবুজ বাংলা ব্লগ

ইসলাম ও জীবন

সম্পাদকীয়।

অনন্তকালব্যাপী পবিত্র সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ পালনের লক্ষ্যে সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার অনুপম আদর্শ মুবারক আলোচনা ও অনুসরণ : প্রতি বছর পবিত্র রমাদ্বান শরীফ মাস উনার আগে ক্ষণস্থায়ী উদ্যোগ নিয়ে বাজারে শৃঙ্খলা ফেরানো যাবে না। দেশে কোন্ পণ্যের চাহিদা কত, উৎপাদন কত হবে, কী পরিমাণ আমদানি করতে হবে- সেই হিসাব সরকারের কাছে নেই কেন? পবিত্র রমাদ্বান শরীফ মাসে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে সরকারের অনেক কিছু করার আছে।
 
সমস্ত প্রশংসা মুবারক খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার জন্য; যিনি সকল সার্বভৌম ক্ষমতার মালিক। সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, হযরত নবী আলাইহিমুস সালাম উনাদের নবী, হযরত রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি অফুরন্ত পবিত্র দুরূদ শরীফ ও সালাম মুবারক। আগামী জুন মাসের প্রথম দিকে পবিত্র রোযা শুরু হবে। সময় বাকি প্রায় দুই মাস। কিন্তু দুই মাস বাকি থাকলেও ওই সময়ের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যগুলোর দাম এখনই বাড়ছে। বিশেষ করে ছোলা, চিনি, খেসারি ও অ্যাংকর ডালের দাম বেড়েছে। ঢাকার খুচরা বাজার ঘুরে এবং ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যতালিকা পর্যালোচনা সূত্রে জানা গেছে, গত দুই সপ্তাহে ছোলার দাম কেজিতে প্রায় ১০ টাকা, এক থেকে দেড় মাসে চিনির দাম কেজিতে ৮-১০ টাকা, খেসারির ডালের দাম প্রায় ২০ টাকা এবং অ্যাংকর ডালের দাম প্রায় ১০ টাকা বেড়ে গেছে। প্যাকেট করা লবণ বাজারজাতকারী কয়েকটি কোম্পানিও তাদের লবণের দাম ৩-৪ টাকা করে বাড়িয়েছে। অথচ পবিত্র রমাদ্বান শরীফ মাসে যে পরিমাণ ছোলার প্রয়োজন হয় তা দেশেই মজুদ আছে। গত ২০১৪-১৫ অর্থবছরে প্রায় ৮ লাখ টন ছোলা আমদানি করা হয়েছে। এলসি খোলা হয়েছে ২৮ হাজার টনের। চাহিদার তুলনায় আরো ২ লাখ টন বাড়তি থাকার কথা। এছাড়া সারাদেশে পাইকারি ও খুচরা বাজারগুলোয় প্রায় ১ লাখ টন ছোলা সরবরাহ অবস্থায় রয়েছে। এ হিসাবে পবিত্র রোযায় ছোলার কোনো সঙ্কট হওয়ার কথা নয়। বিদেশে জাহাজ ভাড়াসহ আমদানির মূল্য হিসেবে প্রতিকেজি ছোলার দাম পড়ে ৪০ থেকে ৪৪ টাকা। পাইকারি বাজার থেকে স্থানীয় বাজারে সরবরাহ ও খুচরা ব্যবসায়ীর মুনাফাসহ প্রতিকেজিতে ৫ টাকার বেশি খরচ পড়ার কথা নয়। এ হিসাবে প্রতিকেজির দাম ৪৫ থেকে ৪৯ টাকা পড়ার কথা। কিন্তু খুচরা বাজারে বর্তমানে ছোলা বিক্রি হচ্ছে প্রতিকেজি ৭৫ থেকে ৭৮ টাকা। এ হিসাবে ব্যবসায়ীদের মুনাফা থাকছে ২৯ থেকে ৩০ টাকা। রোযা আসার প্রায় দুই মাস আগে থেকেই বাজারে ছোলার দাম বাড়তে শুরু করেছে। গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে প্রতি ৫০ কেজির বস্তায় দাম বেড়েছে ১৫০ টাকা। বাণিজ্যমন্ত্রী বলেছে, ‘রমাদ্বান মাস সামনে। প্রতিবছরের মতো যাতে পর্যাপ্ত পণ্য সরবরাহ থাকে সেজন্য মজুদ নিশ্চিত করা হয়েছে। ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) পর্যাপ্ত চিনি, ডাল, সয়াবিন মজুদ করেছে। যাতে কেউ হঠাৎ করে সঙ্কট সৃষ্টি করতে না পারে, সে ব্যবস্থা করা হয়েছে।’ বাণিজ্যমন্ত্রী আরো বলেছে, ‘এর পরও যাতে জিনিসপত্রের দাম ঠিক থাকে, কোনো কারসাজি না হয়, ভেজাল মেশাতে না পারে- সেজন্য রমাদ্বান মাসজুড়ে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর বাজার তদারকি করবে। প্রসঙ্গত আমরা মনে করি, প্রতি বছর পবিত্র রমাদ্বান শরীফ মাস উনার আগে পরিস্থিতি সামাল দেয়ার জন্য ক্ষণস্থায়ী উদ্যোগ নিয়ে বাজারে শৃঙ্খলা ফেরানো যাবে না। এক্ষেত্রে দেশে পণ্যের চাহিদা এবং আন্তর্জাতিক বাজার পরিস্থিতি সম্পর্কে হালনাগাদ তথ্য সরকারের কাছে থাকতে হবে। আগাম ব্যবস্থা নিয়ে নিশ্চিত করতে হবে চাহিদা ও যোগানের ভারসাম্য। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির পর তৎপরতা দেখালে চলবে না, এজন্য বছরজুড়েই পণ্যমূল্যের উপর নজরদারি রাখতে হবে। সরকারের দক্ষ মার্কেট ইন্টেলিজেন্স থাকতে হবে। সিস্টেমেটিক উপায়ে বাজারের তথ্য সংগ্রহ করতে হবে। আন্তর্জাতিক বাজারের আগাম তথ্য থাকতে হবে এবং সে অনুযায়ী সরবরাহ নিশ্চিত করার ব্যবস্থা নিতে হবে। পবিত্র রমাদ্বান শরীফ মাস এলে প্রতি বছর ডাল, চিনি, তেল এবং পেঁয়াজসহ বিভিন্ন নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বেড়ে যায়। আগের বছরের পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে এসব পণ্যের আগাম সরবরাহ এবং আমদানি নিশ্চিত করলে দাম কিছুটা নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। অথচ সরকারের তরফ থেকে এ ব্যাপারে কাগজে-কলমে উদ্যোগ নেয়া হলেও বাস্তবে তা কার্যকর করা হয় না। পর্যাপ্ত মজুদ থাকলেও এই সুযোগে মুনাফাখোর ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট কৃত্রিম সঙ্কট দেখিয়ে পণ্যের দাম বাড়িয়ে দেয়। মূলত, চাহিদা ও যোগান সম্পর্কে সরকারের কোনো ধারণা না থাকায় পণ্যের অতিরিক্ত মূল্য নির্ধারণের সুযোগ পাচ্ছে ব্যবসায়ীরা। প্রকৃত মজুদ তথ্য না থাকায় তারা সরকারকে ভুল তথ্য দিয়ে বোকা বানাচ্ছে। কিন্তু কতিপয় অতি মুনাফালোভী ব্যবসায়ী যাতে পণ্যের দাম বাড়াতে না পারে, তার জন্য সরকারকে কঠোর তদারকি করতে হবে। জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, চেম্বার অব কমার্সসহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান আন্তরিক হলেই ভোক্তারা পাবে তাদের অধিকার। অপরদিকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে অনৈতিক ও অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধির বিপরীতে শাস্তি প্রদানের উদ্যোগ নিতে হবে। ভোক্তা অধিকার রক্ষায় ভোক্তা সংরক্ষণ অধিদপ্তর ও এ বিষয়ে নানা বিধিমালা এবং আইন প্রবর্তিত থাকলেও প্রয়োগ দুর্বলতার কারণে বহুদিন ধরে তা অকার্যকর হয়ে আছে। সরকার আন্তরিক হলে সুদক্ষ বাজার-ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে অবশ্যই পবিত্র রমাদ্বান শরীফ মাসে ভোগ্যপণ্যের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। অসৎ ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেট ভাঙ্গা যায় না- এটা কোনো দক্ষ মন্ত্রী বা সরকারের অজুহাত হতে পারে না, যেমনটি আমরা অতীতে শুনে এসেছি। সরকারের অনেক কিছু করার থাকে। মূলত, সব সমস্যা সমাধানে চাই সদিচ্ছা ও সততা। এই সততা ও সদিচ্ছা আসে পবিত্র সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ অনন্তকালব্যাপী পালন করার ইলম, চেতনা ও জজবা থেকে। আর তার জন্য চাই নেক ছোহবত তথা মুবারক ফয়েয-তাওয়াজ্জুহ। যামানার ইমাম ও মুজতাহিদ, যামানার মুজাদ্দিদ, মুজাদ্দিদে আ’যম আলাইহিস সালাম উনার নেক ছোহবত মুবারকেই কেবলমাত্র সে মহান ও অমূল্য নিয়ামত হাছিল সম্ভব। আর ইতিহাসে তিনিই সর্বপ্রথম দিচ্ছেন অনন্তকালব্যাপী পবিত্র সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ পালন করার মহামহিম নিয়ামত মুবারক। সুবহানাল্লাহ! খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাদেরকে তা নছীব করুন। (আমীন)

0 টি মন্তব্য

এখনো কোনো মন্তব্য নেই।

মন্তব্য করতে হলে লগ ইন করুন।