সবুজ বাংলা ব্লগ

সবুজ বাংলা ব্লগ

জানা-অজানা

মাকাল এর গুন!

মাকাল এর গুন!
[caption id="" align="aligncenter" width="220"] মাকাল ফল, ফূল, বিজ[/caption]

বাংলা নাম: মাকাল

ইংরেজী নাম: Colocynth, Cucumber.

বৈজ্ঞানিক শ্রেণীবিন্যাস

জগৎ/রাজ্য:         Plantae

বিভাগ:  Angiosperms

শ্রেণী:      Eudicots

(unranked):        Rosids

বর্গ:         Cucurbitales

পরিবার:              Cucurbitaceae

গণ:         Citrullus

প্রজাতি:  C. colocynthis

দ্বিপদী নাম: Citrullus colocynthis (L.) Schrad.

[caption id="" align="aligncenter" width="250"] শুকনো ফল[/caption]

পরিচিতি: একটি বহুবর্ষজীবী মাকাল ফলের গাছ লতানো আকৃতির উদ্ভিদ। এই গাছ অন্য বড় বৃক্ষকে আশ্রয় করে বেড়ে ওঠে। লম্বায় প্রায় ৩০-৪০ ফুট পর্যন্ত হয়। গাছের পাতা তেখতে হাতের তালুর মত। প্রতিটি পাতায় ৩-৭টি কারে খাঁজ থকে। পাতাগুলো একান্তরভাবে সজ্জিত। প্রতিটি পর্ব থেকে একটি করে পাতা ও আকর্ষি বের হয়। এই আকর্ষির সাহায্যেই মাকাল গাছ অন্য গাছকে আকড়িয়ে ধরে। পাতার কক্ষে ফুল ফোটে। ফূল ছোট সাদা রঙের এবং একলিঙ্গ। ফল দেখতে অনেকটা ডিমের মত কিন্তু আকারে ডিম থেকে বড় হয়। কাঁচা অবস্থায় সবুজ তার পর হলুদ ও পাকলে গাঢ় লাল হয়। ফলে প্রচুর পরিমাণে বীজ থাকে। শাঁস ধূসর বর্ণের এবং স্বাদ খুব তিতা। বর্ষাকালে ফুল ও ফল হয়।

প্রজাতি: সমগ্র পৃথিবীতে এই জেনাসের বিয়াল্লিশটি প্রজাতি পাওয়া যায়। এর মধ্যে ভারত সহ বাংলাদেশে পাওয়া যায় প্রায় বারটি প্রজাতি। এক প্রকার মাকাল আছে যাকে বাড় মাকাল বলে। এর ফল বিষাক্ত। এর বীজ রক্তের কার্যপ্রণালী নষ্ট করে দেয়।

জন্মস্থান: এর জন্ম স্থান তুর্কী। এখান থেকে আফ্রিকা মহাদেশ(বিশেষ করে নুবিয়া) এবং এশিয়ায় বিস্তার লাভ করে। ভাতের উত্তর-পশ্চিম, মধ্য অঞ্চল এবং দক্ষিনে প্রচুর পরিমানে জন্মে। এই গাছ প্রাকৃতিক ভাবে বন-জঙ্গলে ও পরিত্যাক্ত জায়গায় জন্মায়। এমনকি হিমলয়ের ৫০০০ ফুট উঁচু স্থানেও এই গাছ জন্মাতে পারে। বাংলাদেশের ঢাকা, ময়মনসিংহ এবং টাঙ্গাইল জেলার জঙ্গলে এই গাছ দেখা যায়। এটা করার জন্য ২৫০ - ১৫০০ মিমি বার্ষিক বৃষ্টিপাত প্রয়োজন এবং ১৪.৮ বার্ষিক তাপমাত্রা সহ্য করতে পারে।  ১৪ শ শতাব্দী থেকে সাইপ্রাসে মাকাল গাছ এর চাষ হয় তারা তা এক্সপোর্ট করে থাকে।বেলে, কাদামাটি, মরু ময় মাটিতেও মাকাল গাছ জন্মে।

রাসায়নিক উপাদান: ফলে থাকে গ্লাইকোসাইড এবং তিতা উপাদান যেমন- কলোসিন্থ, কলোসিন্থিনিন, ইলাটিরিন, সাইট্রুলুইন, সাইট্রুলুয়েন, সাইট্রুলেন। আরও থাকে সাইট্রুলিক এসিড, ফাইটোস্টেরল, ফ্যাটি এসিডের মিশ্রণ, রেজিন, হেপাটিকোসানল এবং সাইট্রুলোল(JCS, 1965; JPS 1967; JICS, 1955; IJP, 1970; IJC, 1979)। বীজে থাকে ফিক্সড অয়েল, ফাইটোস্টেরোলিন, ফাইটোস্টেরল, হাইড্রোকার্বন এবং স্যাপোনিন। এ ছাড়া গাছের অন্যন্য অংশে থাকে কোলন, এবং দুটি এলকালয়েড, গ্লাইকোসাইড এবং ট্যানিন( Planta Med, 1973 & 1974)। তেলে থাকে সাইট্রুনাল(CA, 1976)মূলে থাকে আলফা-ইলাটেরিন, হেনট্রিয়কনটেক এবং স্যাপোনিন।

ব্যবহার্য অংশ: ফল, বীজ, মূল।

ঔষধী ব্যবহার: বাইরের চাকচিক্য যতই থাকুক না কেন ভেতরটা অন্তঃসারশূন্য_ এমন অর্থ বোঝাতে 'মাকাল ফল' প্রবচনটি ব্যবহৃত হয়ে থাকে। বাস্তবে কিন্তু মাকালের বেশ কিছু ভেষজ গুণও রয়েছে। এই গাছের মূল এবং ফল ঔষধ হিসেবে ব্যবহার করা হয়। ব্রিটিশ ফার্মাকোপিয়াতে এই গাছের ফলের ব্যবহারের কথা উল্লাখ আছে। আধুনিক ঔষধ শিল্পে ফলের নির্যাস থেকে তৈরি ঔষধ ল্যাক্সেটিভ হিসেবে ব্যাপক ব্যবহৃত হয়। ভারতেও রয়েছে এই ফল ও মূলের ব্যাপক ব্যবহার।

>> পারগেটিভ বা নির্মলকারক হিসেবে: কাঁচা ফলের শুকনো শাঁস শক্তিশালী কোষ্ট পরিস্কারক হসেবে ব্যবহৃত হয়। এটি ব্রিটিশ ফার্মাকোপিয়ার অফিসিয়াল অনুমোদন প্রাপ্ত। মাকাল খুবই তিতা স্বাদযুক্ত এবং আধুনিক ঔষধ শিল্পে এই ফলের নির্যাস দিয়ে কোষ্ঠ পরিষ্কারক ক্যাপসুল তৈরী করা হয়। শুকনো এবং পাউডার ফর্মে মাত্র ২-৮ দানা কোষ্ঠ পরিষ্কারক ঔষধ হিসেবে ব্যবহার করা হয়।

লিভার টক্সিডিটি কমায়: জার্মনির এক গবেষণা থেকে জানা যায়, মাকাল ফলের নির্যাস লিপিড পার-অক্সিডেশনে বাধা প্রদান করে, লিভার থেকে টক্সিসিটি অর্থাৎ বিষাক্ত পদার্থ দূর করতে সাহায্য করে। এ জন্য জন্ডিস রোগ নিরাময়ে এই ফলের নির্যাসের রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা।

দেহ থেকে পানি নিষ্কাশন করে: দেহে কোন কারণে পানি জমলে অর্থাৎ শোথ রোগে দেহ থেকে পানি দূর করতে মাকাল ফলের নির্যাস খুবই শক্তিশালী ঔষধ হিসেবে কাজ করে।

বিনাইন প্রোস্টেটিক হাইপারপ্লাসিয়ায়: ইঁদুরের উপর এক গবেষণা থেকে জানা যায়, মাকাল ফলের পেট্রোলিয়াম ইথার নির্যাস থেকে স্টেরয়েড জাতীয় উপাদান আলাদা করে ইঁদুরের দেহে প্রয়োগ করা হয়। এবং পরীক্ষা শেষে দেখা যায় ইঁদুরের প্রোস্টেটের ওজন তাৎপর্যপূর্ণ ভাবে কমেছে।

জরায়ু সমস্যায়: এই ফলের নির্যাস থেকে তৈরীকৃত ঔষধ মহিলাদের জরায়ুর বিভিন্ন সমসার ব্যবহার করা হয়, বিশেষ করে মহিলাদের ঋতু বদ্ধতার ক্ষেত্রে দারুণ কার্যকর।

স্তন প্রদাহে: এই গাছের মূল বেটে পেস্ট করে স্তনে লাগালে স্তনের প্রদাহ কমে।

এছাড়া গাছের মূল জন্ডিস, পেটে পানি জমা, প্রস্রাবের সমস্যা, বাতব্যথা, কাশি, পেট বড় হয়ে যাওয়া এবং শিশুদের এ্যাজমা নিরাময়ে বিশেষ ভূমিকা পালন করে।

বীজের তেল সাপের কামড়, বিছার কামড়, পেটের সমস্যা( আমাশয়, ডায়রিয়া), মৃগীরোগ এবং সাবান উৎপাদনের জন্য ব্যবহার করা যায়।

চুলের বৃদ্ধি ও চুল কালো করে: বীজের তেল চুলের বৃদ্ধি ও চুল কালো করতে কার্যকর।

ফল গুঁড়ো করে নারকেল তেলের সঙ্গে ফুটিয়ে নাক ও কানের ঘায়ে প্রয়োগ করলে আরাম হয়। কথিত আছে_ মাকালের ফল বিষাক্ত। অনেকে বলেন এ ফল ভাতের সঙ্গে মিশিয়ে কাককে খেতে দিলে কাক মরে যায়। গবাদিপশুর বক্ষপ্রদাহে ও হৃদযন্ত্রের রোগে ফল ব্যবহৃত হয়। মূল সমপরিমাণ ত্রিফলা (আমলকি, বহেরা ও হরীতকী একসঙ্গে ত্রিফলা নামে পরিচিত) ও হলুদ মিশিয়ে যে অরিষ্ট তৈরি হয়, তা মধু মিশিয়ে সেবন করলে গনোরিয়া রোগে উপকার পাওয়া যায়। ফলের রস কিংবা মূলের বাকল তিল তেলের সঙ্গে গরম করে গোসলের সময় তেল হিসেবে ব্যবহার করলে বহুক্ষণ স্থায়ী মাথাধরা আরাম হয়। কানে পুঁজ হলে একই উপায়ে তৈরি করা তেল কানে দিলে আরাম হয়।

সতর্কতা: তবে গর্ভবতী মহিলাদের এই ঔষধ ব্যবহার না করাই ভাল। বেশি মাত্রায় গ্রহণ করলে এটা বিষ হয়ে যায় এবং ইউরোপে মৃত্যুবরণ করার ঘটনাও ঘটেছে। এক বা আধা চামচ পরিমান (প্রায় ৯০টি বিজ) পাউডার খেলে তার মৃত্যু হবে এটা প্রমানিত। এক মহিলা ১২০ দানা (Grains) পাউডার গ্রহণ করেন গর্ভপাতের জন্য এবং তিনি ৫০ ঘন্টার মধ্যে মারা জান। এক ঘটনা থেকে জানা যায়, ৩ আউন্স পরিমাণ পাউডারের বিষাক্ততা থেকে পুরনুদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে মাকাল ফলের বিষাক্ত মাত্রা হল ০.৬ থেকে ১ গ্রাম এবং প্রায় ৮ গ্রাম হলে প্রাণনাশক।

এই গাছের সমস্ত অংশ তিতা এবং এর শুকনো পাউডার যখন নাকে বা চোখে প্রবেশ করে তখন চুলকায়।

1 টি মন্তব্য

  • গোলামে মাদানী আক্বা

    :present:

মন্তব্য করতে হলে লগ ইন করুন।