সবুজ বাংলা ব্লগ

সবুজ বাংলা ব্লগ

আন্তর্জাতিক

গনতন্ত্র ১৩

এক পরিচিত ব্যাক্তির সাথে চায়ের কাপে চুমুক দিতে দিতে গল্প করছি। তো, সে মাঝে মাঝে তার এক বিদেশী বন্ধুর কথা বলত। তার বন্ধু আমাদের প্রতিবেশী রাষ্ট্রের। সে নাকি তার বিদেশী বন্ধুকে বলে তোমাদের দেশ অমুক-তমুক। তোমরা আমাদের থেকে অন্যায্য বিষয়ও ছাড়না আর আমাদের নয্যটাও দাও না। তখন তার সে বিদেশী বন্ধুর জবাব - পৃথিবীরর সব রাষ্ট্রই চায় আর এক রাষ্ট্রের কাছথেকে সব কিছুই নিয়ে নিতে। তো তোমরা যদি না দিতে তো আমরাও পেতাম না। দোষ আমাদের না, আমরা খোলা অাকাশের নিচে টয়লেট করলেও আমাদের স্বার্থ ও চেতনাকে কখনই বিসর্জন দেই না। এর পর অনেক কথা হল, আমি চলে এলাম। বসে বসে হিসাব করে দেখলাম দুজনের কথাই ঠিক। তবে এটাও ভাবতে লাগলাম, কেউ কি একটা টাকাও কাউকে এমনিতে দেয়। যারা দেয় তারা কি জন্য দেয়? আর সেই দিন থেকে, কারন খুঁজতে খুজতে আজ :১৩ - তে পৌছিলাম। কি দিয়ে শুরু করব ভাবতে ভাবতে, আজ যে খবরটা পড়ে বেশি অভিভূত হয়েছি তা দিয়েই শুরু করলাম। এর মধ্যেই ব্যাখ্যাটা খুঁজে পেলাম। সেই খবরের দুটি লাইনই আমার আলোচ্য। কুয়েত টাইমসকে দেয়া এক সাক্ষাতকারে আধুনিক মালয়েশিয়ার রূপকার ও দেশটির সাবেক প্রধানমন্ত্রী ড. মাহাথির বিন মোহাম্মদ বলেন: ""অনেকে বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো গণতান্ত্রিক হলেই, সব সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে। কিন্তু গণতন্ত্রের কার্যাবলী তারা বুঝতে পারে না। গণতন্ত্র এলে সরকার গঠিত হবে, নির্বাচন হবে, কিছু মানুষ সরকার বানাবে, কেউ বিরোধী দলে থাকবে। কিন্তু বিরোধীরা পরাজিত হতে চাইবে না, সবাই জিততে চাইবে। এসবের কারণে গণতন্ত্র এ অঞ্চলে স্থিতিশীলতা ও সুশাসন আনেনি।"" আসলেই অবস্থাও তাই। পৃথিবীর কোথাও গনতন্ত্র কোন সুখবর দিতে পারেনি। গনতন্ত্র কখনই সভ্য, ঐক্য, স্থিতিশীলতার ও উন্নয়নের সংগা নয়। ""গনতন্ত্রে সরকার ক্ষমতায় এসেই চিন্তা করে পাঁচ বছর পরে আবার আসা যায় কি করে। আর বিরোধী দল চিন্তা করে পারলে আজই সরকারকে হটিয়ে ক্ষমতায় বসা যায় কি করে। (গনতন্ত্র : ৭)"" কিন্তু মাহথিরো একজন গনতন্ত্রি। তারপরও তিনি কিন্তু বুঝেছেন গনতন্ত্রের সত্যিকারের আকুতি, আর্তনাদ, মিনতি, কৌটিল্য সোজা ভাষায় মুনাফেকি। আবার অনেকে বলতে পারে গনতন্ত্রি মাহথির আধুনিক উন্নত মালয়েশিয়ারর রুপকার। কিন্তু কিভাবে তা সম্ভব হল, পরের পোষ্টে আলোচনা করা যাবে। তো সেটা হবে গনতন্ত্রের আর এক তেলেসমাতি। আবার কেউ বলতে পারেন অমুসলিম রাষ্ট্র গুলোতেতো গনতন্ত্র আছে, তারাও চড়ম উন্নত। এটার ব্যাখ্যা হল, একজন অমুসলিমেরর জন্য গনতন্ত্র হল ধর্মীয় ও জতিগত ঐক্যের নিয়ন্ত্রক। তারা ভাবে তাদের মধ্যে যত অনৈক্য, বিভেদ, সংঘাত আছে তারা মাটি চাপা দিয়ে এক কাতারে দাঁড়াবে। যেকোন মূল্যে ঐক্য রক্ষা করবে কারন তারা জানে, ""ঐক্যই স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্বই ঐক্য""। এখন মুসলমানরা যদি এরুপ করে, তাহলে। এটা একটা স্বপ্ন মাত্র। কারন অমুসলিমরা গনতান্ত্রিক যত দলে বিভক্ত হউক না কেন তারা মুসলমানদের বিরুদ্ধে এক। তাই যারা যত মুসলিম বিরোধী তারা ততই জনপ্রিয়। তারা নিজেদের স্বার্থেই মুসলিমদের মধ্যে বিভক্তি, সন্ত্রাসবাদ, ও ঐক্যের বিনাশ সাধন করে। তারা মুসলিম রাষ্ট্রে শাষক ও তাদের সমর্থকদের সাথে জনগনের একটি উষ্কানি মূলক, হিংসাত্বক, দন্ডের সম্পর্ক সৃষ্টি করে, এভাবে দীর্ঘ সময় ধরে এটি সংঘাত ও যুদ্ধাবস্থা দিকে অগ্রসর হয়। অমুসলিম ঐক্যশক্তি এখানে একটি অনুঘটক হিসাবে কাজ করে, এক্ষেত্রে জনগনই ভুক্তভোগী তবে অমুসলিম ঐক্যশক্তি জনগন বলতে শাষক গোষ্টির মতই অপর কোন সমশক্তির স্বীকৃত গোষ্টি বা দলকে বুঝে থাকে যার দ্বাড়া অমুসলিম ঐক্যশক্তির বৃহত্তর স্বার্থ হাসিল হয়। আজ ঠিকই সবকিছু থেকেও আমরা নিঃস্ব। ঠিক একারনেই তারা মুসলমানদের নিয়ন্ত্রন কৌসল নির্ধারন করে দুভাবে। ১) মুসলমানদের কেন্দ্রকে নিয়ন্ত্রণ করে। ২) গনতন্ত্রের মাধ্যমে বিভেদ বাড়িয়ে। প্রথমটির ব্যাখ্যা: মুসলিম উম্মার কেন্দ্রে অমুসলিম ঐক্যশক্তি তাদের, তাবেদার বসিয়ে তার দ্বাড়া অপরাপর বিভিন্ন অংশ কে নিয়ন্ত্রন করে এমনকি তারা উপকেন্দ্র তৈরী করে মুসলিম উম্মার বিভেদকে বিস্তৃত করছে। যেমন: ইজরাঈলের মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যকে অস্থিতিশীল রেখে ও সৌদির স্থিতিশীলতা প্রদানের ভান করে করে তাদের ক্ষমতার গদিকে রক্ষার সমস্ত সহায়তা প্রদানের মাধ্যমে তাকে নিয়ন্ত্রণ করছে। তারা একি ভাবে ইরানের মত রাষ্ট্রকে উপকেন্দ্র বানিয়ে সৌদি-ইরান শীতল যুদ্ধের দ্বাড়া একি ভাবে উম্মাকে ভাগ করছে ও এক জনকে অার এক জনের মাধ্যমে উষ্কিয়ে দিয়ে দুজনের কাছ থেকে সমান ফায়দা লুটছে। দ্বিতীয়টির ব্যাখ্যা: অপরাপর মুসলিম উম্মাকে গনতন্ত্রের মাধ্যমে বিভক্ত করে তাদের ঐক্য নষ্ট করে ও তাদের একেক অংশকে একেক ভাবে নিয়ন্ত্রন করছে। যার ফলে, মুসলিম রাষ্ট্রের শাষকরা নিজেদের মধ্যাকার বিরোধ তথা বিরোধী দলের সাথে সংঘাতের সম্ভবনাকে সামনে রেখে ক্ষমতা হাড়ানোর ভয়ে কোন বিশ্ব পরাশক্তি বা, অমুসলিম ঐক্য শক্তি বা, আঞ্চলিক অমুসলিম ঐক্য শক্তির কাছে সবকিছু বিলিয়ে দিচ্ছে। বাস্তবতার আলোকে, রুশ এবং মার্কিনদের মধ্যে দ্বন্দ আছে এবং রুশরা মুসলিম উপকেন্দ্র ইরানকে, মার্কিনরা মুসলিম কেন্দ্র সৌদি আরবকে সমর্থন দিচ্ছে প্রকাশ্যে । কিন্তু তারা এক হয়ে শুধু এ বিভেদকে পুজিঁ করে উম্মার নিঃশেষ সাধন করে যাচ্ছে। আজ ইরান বলছে, "" মার্কিন সরকার, ইহুদিবাদী ইসরাইল ও সৌদি শাসকগোষ্ঠী মিলে গড়ে উঠেছে দুষ্কৃতির ত্রিভুজ চক্র। এই চক্রের একদিকে রয়েছে মার্কিন শক্তি, ইসরাইলের ষড়যন্ত্র ও সৌদি সরকারের অর্থ। আর এই অশুভ চক্র সারা বিশ্বে ও মধ্যপ্রাচ্যে ব্যাপক রাজনৈতিক, সামরিক ও নৈতিক নিরাপত্তাহীনতা সৃষ্টি করেছে।"" সূত্র ইরানী নিউজ চ্যানেল। কথাটি সত্য, তবে ইরানের কাজও কম কিসে, তারাওতো আর এক অমুসলিম রুশদের বন্ধু ভেবে সেই মুসলমানদের পিছেই লেলিয়ে দিয়েছে। অমুসলিমরা গনতন্ত্রকে, সমাজতন্ত্রকে যতবড়, সুন্দর করে দেখায় এটাযে ধোঁকা তা তাদের কথা কাজে স্পষ্ট । মার্কিনরা চায় সৌদি রাজতন্ত্র আর মিশরের গনসৈরতন্ত্রী সিসির শাষন। এদিকে রুশ গনমাধ্যমে দেয়া এক বিবৃতিতে সিরিয়া সম্পর্কে বলতে গিয়ে মি: পুতিন বলেছিলেন, "" পশ্চাত্যরা তাদের নিজেদের গনতান্ত্রিক অাদর্শকে জোড় করে মধ্যপ্রাচ্যের উপর চাপিয়ে দিতে চায়, যা এ অঞ্চলের মানুষ গ্রহন করতে নারাজ।"" তবে মি: পুতিন অন্য কোন অঞ্চলের কথা বলেননি। কারন সেখানে তিনি গনতন্ত্রের সুবিধাভোগি। আর মার্কিনরা কি অন্য কোন অঞ্চলে রাজতন্ত্র বা সৈরতন্ত্রের কথা বলে। উত্তর, না। আজ দক্ষিন এশিয়ার এঅঞ্চলেও এ পরা শক্তি গুলো একটি ঘুমন্ত আগ্নেয়গিরীকে বার বার চাপ দিচ্ছে। অগ্নুৎপাত এখন শুধু সময়ের ব্যপার। তারপর শুরু হবে রুশ মার্কিন ভাগাভাগি আবার অাঞ্চলিক অমুসলিম ঐক্য শক্তির কেউ হয়তো ভাগ বসিয়েই বসে আছে। কিন্তু কি অবাক করা কথা সেই আমরাই কিনা তাদের উপরই ভর করে ক্ষমতার স্বপ্নদেখি, আর তারা অর্থাৎ অমুসলিম ঐক্য শক্তি কড়ায় গন্ডায় হিসাব করে তাদের স্বার্থকে। আমরা পাড়িনা আমাদের সৃষ্টিকর্তার উপর ভরসা করতে, ঐক্য ধরে রাখতে, কারন আমরা গনতন্ত্রী। তবে, আমাদেরকে অবশ্যই বুঝতে হবে, খুজতে হবে এমন একজন মহান পবিত্র পথনির্দেশক কে, যিঁনি একি সাথে খোদার ভয়েও কাঁদেন, উম্মার কষ্টেয় কাঁদেন। যিঁনি একি সাথে খোদার শক্তি ও গায়েবি মদদের ভরসাও করেন ও উম্মার ঐক্যের জন্যও তাগিদ দেন। তিনি দুনিয়াবি কোন পরাশক্তির মুখাপেক্ষী নন। আর তিঁনিই প্রকৃত পথপ্রদর্শক, বন্ধু, হিতাকাঙ্খি। স্বার্থকে বিলিয়ে দেয়া গনতন্ত্র আর নয়, অনৈক্য, সংঘাত আর নয়। আর আমরা যদি সেই পথপ্রদর্শক উঁনাকে না চিনি তবে, আমাদের ধোঁকাবাজ বন্ধুরা যখন আমাদের বুকে ছুরি বসাবে সেই অন্তিম মুহুর্তে আমরা হয়তোবা আপসুস করার জন্য কিছু সময় ছাড়া আর কিছুই পাব না। আর সময় সেতো কাউকেই চেনে না.........

1 টি মন্তব্য

  • দূর্গম গিরি

    সৌদি আরবের তলা ইজরাঈল, তলা খুলে গেলে তারা শেষ, আর সেই তলা পলিশ করা হয় মার্কিনদের বড় অর্থ সহায়তা দ্বাড়া।

    ইরানের শিয়া বিপ্লব আজ গনতন্ত্রের ট্রাপে, তারা তেজষ্ক্রিয় জ্বালানী হাড়িয়ে হাঁস ফাঁস করছে এদিকে অবোরোধও পরিপূর্ণ ওঠেনি।

    আর গতকাল, এক মার্কিন গোয়েন্দা প্রধান বাংলাদেশের সরকার বিরোধী দল গুলোকে সন্ত্রাসবাদেন দিকে প্রকাশ্য আহবান জানিয়ে দক্ষিন এশিয়ার স্থিতিশীল পরিবেশকে ভয়াবহ পরিস্থিতির দিকে ঘুরিয়ে দিয়েছে।

মন্তব্য করতে হলে লগ ইন করুন।