সবুজ বাংলা ব্লগ

সবুজ বাংলা ব্লগ

আন্তর্জাতিক

গনতন্ত্র ১০

অমুসলিম দেশে, সব অমুসলিমরা এক হয়ে সমস্ত গনতন্ত্রিক নিয়ম নীতি উপেক্ষাকরে স্বধর্মের রক্ষায় ঐক্যবদ্ধ হয়। তো এখন দেখি মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ তথা মুসলমানদের দেশে গনতন্ত্র কেমন ? প্রথমে আসি মুসলমান কি কেমন ও কারা ? কিঃ সহজ ভাষায় আখেরী নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার উম্মত দাবিদার , আল্লাহ পাক উনার এমন বান্দা যারা কথা, কাজ এর দ্বাড়া কুরআন, হাদিস, ইজমা, কিয়াস শরীফ উনাদের অনুসারী ও অন্তরে ধারনকারী তারাই মুসলমান। কেমনঃ # এক মুসলমান আর এক মুসলমানের ভাই । # তারা একটি দেহের ন্যায় । # এক জনের ব্যাথায় আর এক জন ব্যাথিত হয় । # তারা কোন কিছুকে ভালবাসে বা ঘৃনা করে শুধু আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য । # তারা আল্লাহপাক উনার শক্তি ও গায়েবি মদদে বিশ্বাষী , এর বিপরীতরা মুসলমান দাবি করতে পারে তবে হতে পারে না । তাহলে একটি দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগোষ্ঠি যদি মুসলমান হয় তবে আলাদাকরে আবার গনতন্ত্র কেন ? গনতন্ত্র যদি সংখ্যাগরিষ্ঠের শাষন হয় তো মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ গনতন্ত্র মানে সয়ংক্রিয়ভাবে ইসলাম ভিত্তিক শাসন প্রতিষ্ঠা। কিন্তু বাস্তবে কি তাই ? না তা নয় ? কারান গনতন্ত্রের নিজস্ব কিছু নীতি, দর্শন, আদর্শ, বিধান বিদ্যমান। তো গনতন্ত্র নিজেই একটি ধর্ম সাদৃশ বিধান যা সরাসরি ইসলামের প্রতিযোগি, ও প্রতিস্থাপনকারী। সে বিষয়গুলো মেনেই গনতন্ত্রি হতে হয়। ঘরে ঘরে গনতন্ত্র , জনে জনে দেশ । কথাটি কটু বাক্য হলেও এটিও গনতন্ত্র সিদ্ধ । বাস্তবে কোন গনতন্ত্রির নিজেকে মুসলমান দাবি করাটা ভিত্তিহীন অমুলকও বটে , কারন প্রতি পদে পদে তাকে প্রতিটি মুসলমানিত্বের উসূল কে উপেক্ষা করে এগোতে হয়। তাহলে বলতে পারেন সর্বনাশ, একটা মুসলিমদেশে গনতন্ত্র আসল কিভাবে ? ইসলাম আবির্ভাবের পর ইসলাম তার উসূলদ্বাড়া খিলাফতকেই শাষন ব্যাবস্থা হিসাবে উম্মাহকে হাদিয়া করে । পরে আমির ওমরাদের সুলতানি শাষন ইসলামের ধারক হলেও সেচ্ছাচারী বিভ্রান্তদের তন্ত্রময় শাষন রাজতন্ত্র সারা দুনিয়ায় প্রভাব বিস্তার করে ও আরো আপডেট হয়ে একনায়কতন্ত্র, সমাজতন্ত্র, গনতন্ত্র, সামরিকতন্ত্র নাম দিয়ে নিজেদের প্রকৃত সত্তার রুপ ও প্রতারনা ময় চাটুকার অবয়ব টির প্রকাশ করে যাচ্ছে । খিলাফত ও তৎপরবর্তি সুলতানি শাষনের পর গজিয়ে উঠা বা জাগরিত হওয়া সব তন্ত্রই একি রূপে অস্তিত্ববান হলেও কোন দেশ ও জাতিকে আয়ত্বে আনতে গনতন্ত্র , সমাজতন্ত্র একরুপ ও সমান ভাবে কার্যকারী ও এরা রাজতন্ত্র থেকে একটু ভিন্ন। একটি মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশে গনতন্ত্র আসে ইসলামের নামধারী ৭২ বাতিল ফিরক্বা বা অবিশুদ্ধ বিষয়ে বিশ্বাষ স্থাপনকারীদের(যেমনঃ শিয়া ও ওহাবী মতবাদিরা) একটি ক্রিয়াশীল পরিবেশ সৃষ্টির মাধ্যমে । যারা এমন একটি পরিবেশ সৃষ্টিকরে যা গনতন্ত্রের আগমন ও স্থায়িত্বের কারন হয়ে যায়। এদেরকে বলে গনতন্ত্রের বাহক। এ বাহক একটি নীতি অনুসরন করে চলে। এই নীতি বা ল কে বলা হয় " দি ল অফ সাকসেশন অফ সাবজেক্টস্ " বা " বিষয়গুলোর ক্রমাগমন নীতি"। এই ল বা নীতিটি এরূপ, "বাহকের অবস্থার উন্নতি হউক বা অবনতি হউক প্রতিনিধীত্বকারী বিষয় সর্বদা অগ্রগামি থাকে "। এখানে প্রতিনিধীত্বকারী বিষয়টিকে ধরি "গনতন্ত্র" । আর বাহক দু প্রকার । ১। ধনাত্বক বাহকঃ যে বাহকের অবস্থাউন্নতিতে গনতন্ত্রের অবস্থার অগ্রগতি হয় তাকে ধনাত্বক বাহক বলে। যেমনঃ সংখ্যালঘু সম্প্রদায় , নামে মাত্র মুসলমান আদতে বা কাজে কর্মে মুনাফিক, মানবাধীকারের তল্পিবাহক কিছু সুবিধাবাদি, কর্পোরেট হাউজগুলো, তথাকথিত নারী অধিকার ট্রেডার্স সমূহ এরূপ আরো অনেক। ২। ঋনাত্বক বাহকঃ যে বাহকের অবস্থার অবনতি হলে গনতন্ত্রের অবস্থার উন্নতি হয় তাকে বলে ঋনাত্বক বাহক । যেমনঃ ইসলামের নামধারী সন্ত্রাসি সংগঠন আই এস, আল কায়দা । ওলামায়ে ছূদের কট্টর ইসলামিক নামধারী গনতন্ত্রি দল গুলো ও সাধারন মুসলমানগন ইত্যাদি । গত পর্বে চাপ প্রয়োগকারি বিষয় গুলো উল্লেখ করা হয়েছে এদেরকে প্রভাবকও বলা যেতে পারে।রাসায়নিক বিক্রিয়ার ক্ষেত্রে প্রভাবকগুলো মূল বিক্রিয়ায় অংশগ্রহন না করে বিক্রিয়ার গতি বাড়াতে সাহায্য করে, তেমনি চাপ প্রয়োগকারী বিষয় বা প্রভাবক গুলো বাহকের গতি তরান্বিত করে ও গনতন্ত্রায়ন সহজ ও স্বাভাবিক করে । আবার রাসায়নিক বিক্রিয়ায় ব্যাবহৃত উত্তেজক সমুহের মতই কাজ করে সম্রাজ্যবাদি নিয়ন্ত্রিত প্রেস ও ইলেকট্রিক মিডিয়া সমূহ যারা এগুলো ঘন ঘন ও দ্রুত ছড়িয়ে থাকে। সব প্রক্রিয়া গুলো সম্মিলিত প্রচেষ্টায় মুসলিম রাষ্ট্রে ঢুকে পরে গনতন্ত্র । যেমনঃ পাকিস্থানের একটি ঘটনা ধরা যাক , এখানে সম্রাজ্যবাদিদের ঋনাত্বক বাহক আল কায়দাকে দিয়ে হামলার নাটক সাজিয়ে আহত করা হয় ধনাত্বক বাহক মালালাকে , প্রভাবক হিসাবে কাজ করে সম্প্রদায়িকতার নেমপ্লেট তথা নামধারী ইসলামি সন্ত্রাসবাদ ও নারী শিক্ষা আর উত্তেজক মিডিয়ার বদৌলতে তা মূহুর্তে ছড়িয়ে পড়ে বিশ্বে আর গনতন্ত্রায়নের পথে আরো এক ধাপ এগিয়ে যায় পাকিস্তান। তবে গনতন্ত্রের মজা টের পাচ্ছে আরব বসন্তের হুজুগে মাতা মিশর, লিবিয়া, সিরিয়ার মুসলমানরা । আজকের চলমান সময়ে গনতন্ত্রের সাইনবোর্ড ধারী সম্রাজ্যবাদিদের হাতে শহীদ হয়েছে মিলিয়ন মিলিয়ন মধ্যপ্রাচ্য, দূর প্রাচ্য, আফ্রিকা ও দক্ষিন এশিয়া ,ইউরোপের মুসলমান । সমাজতন্ত্রী স্ট্যালিন, মাও সে তুং , পল পট দের হাতে শহীদ হয়েছিল মিলিয়ন মিলিয়ন মুসলমান । কারন এরাও স্প্যানিশ রাজা ফার্দিনান্দ এর উত্তর শুরি, যে কিনা প্রতারনা করে মিলিয়নাধিক মুসলমানকে শহীদ করেছিল আজকে এরাও গনতন্ত্রি । কাফেররা মুসলনদের এপ্রিল ফুলের মত প্রতারনাময় গনতন্ত্রের বসন্ত বাতাসের সাদা মূলো দেখিয়ে মুহুর্তেই ভোল পাল্টে শহীদ করছে ,করাচ্ছে অসংখ্য মুসলমানদের । সত্যই, নববী যুগে খিলাফতই দিয়েছে প্রকৃত মানবসভ্যতার মুক্তি তবে তা আজ কেন নয়। মুসলমানরা কেন এই নব্য ধর্ম গনতন্ত্রকে বাদ দিয়ে অপেক্ষার প্রহর গুনছেনা কোন তারিক বিন জিয়াদ রহমাতুল্লাহির , কোন সালাউদ্দিন আইয়ুবী রহমাতুল্লাহির । ফিরে আস মুসলমানরা , জেগে উঠ মুসলমানরা । তোমরা কি দেখছনা মুসলমানদের কথিত অবিভাবক নামধারী ইজরাইলের দালাল সৌদি ওহাবীরা আমাদের ইয়েমেনের ভাইদের শহীদ করছে । আর কত ? এর কি শেষ দেখব না............. 9. http://shobujbanglablog.net/69739.html

2 টি মন্তব্য

  • দূর্গম গিরি

    গনতন্ত্র যদি ইসলাম উনার উসুল অনুযায়ী জায়িজ হত তবে ৯৮ ভাগ মুসলমানের এই বাংলাদেশে নামধারি বাতিল ফিরকা ওহাবী জামাতিদের আজ হরতাল ডাকার কোন প্রয়োজন ছিল না ।আর এই হরতাল সরকারের বিরুদ্ধে হলেও জিম্মি কিন্তু ৯৮ ভাগ মুসলমানই । মানুষ যত তাড়াতাড়ি বুঝবে ও নিজেকে শুধরিয়ে নিয়ে এ গনতন্ত্র থেকে সরে আসবে ততই তাদের মঙ্গল । কারন গনতন্ত্রের অস্তিত্ব জনগনেরই অনুগ্রহ, তো তারা চাইলে এটা রাখতেও পারে ছুড়ে ফেলতেও পারে।
  • দূর্গম গিরি

    সুন্দর !
    জামাত গনতন্ত্রের ঋণাত্বক বাহক , মানবাধিকার সংস্থা গুলো ধনাত্বক বাহক তো দেখুন একে অপরের সুখে দুঃখে কেমন করে পাশে দাড়ায় ।

    যুদ্ধাপরাধী জামাতিদের ফাসিঁ না দিতে চাপ প্রয়োগ করে মানবাধিকার সংস্থা এইচ আর ডাবলিউ ।
    এটাতে প্রমান হয়ঃ জামাত সম্রাজ্যবাদিদের এজেন্ট , মানবাদিকার সংস্থাগুলোই সর্বাধিক মানবাধিকার লঙ্গন কারী , গনতন্ত্র মুসলিম দেশ দখলকরার জন্য সম্রাজ্যবাদিদের একটি শক্তিশালী অস্ত্র ।

মন্তব্য করতে হলে লগ ইন করুন।