সবুজ বাংলা ব্লগ

সবুজ বাংলা ব্লগ

কৃষি

কদম এর গুন!

কদম এর গুন!
[caption id="" align="aligncenter" width="220"] কদম ফুল[/caption]

কদম

বৈজ্ঞানিক শ্রেণীবিন্যাস জগৎ/রাজ্য: Plantae বিভাগ: Angiosperms শ্রেণী: Eudicots আদেশ: Asterids বর্গ: Gentianales পরিবার: Rubiaceae গণ: Neolamarckia প্রজাতি: N. cadamba দ্বিপদী/ ভেষজ নাম: Neolamarckia cadamba (Roxb.) Bosser স্থানিয় নাম : কদম, কদম্ব,

অন্যন্য নাম: বৃত্তপুষ্প, মেঘাগমপ্রিয়, কর্ণপূরক, ভৃঙ্গবল্লভ, মঞ্জুকেশিনী, পুলকি, সর্ষপ, প্রাবৃষ্য, ললনাপ্রিয়, সুরভি, সিন্ধুপুষ্পও।

ব্যবহার্য অংশ :গাছের ছাল, কান্ড, পাতা, ফল, ফূল ফুলের রেণু ঔষধ হিসাবে ব্যবহৃত হয়।

রোপনের সময় : বর্ষাকাল

উত্তোলনের সময় : সারা বছর সংগ্রহ করা যায়।

আবাদী/অনাবাদী/বনজ : আবাদী, অনাবাদী বনজ সব ধরনের হয়ে থাকে।

চাষের ধরণ : বীজ ও কলম থেকে গাছ উৎপন্ন হয়

[caption id="" align="aligncenter" width="220"] কদম গাছ[/caption]

উদ্ভিদের ধরণ: বড় বৃক্ষ জাতীয় উদ্ভিদ। দীর্ঘাকৃতি, বহুশাখাবিশিষ্ট বিশাল বৃক্ষ এই কদম গাছ।একটি পূর্ন গদম গাছ ৪৫ মিটার বা ১৪৮ফুট দির্ঘ হতে পারে। রূপসী তরুর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে কদম। কদমের কাণ্ড সরল, উন্নত, ধূসর থেকে প্রায় কালো এবং বহু ফাটলে রুক্ষ, কর্কশ এবং দূত বর্ধনশীল। ডাল অজস্র এবং ভূমির সমান্তরালে প্রসারিত। পাতা বড় বড়, ডিম্বাকৃতি, উজ্বল-সবুজ, তেল-চকচকে এবং বিন্যাসে বিপ্রতীপ। উপপত্রিকা অত্যন্ত স্বল্পস্থায়ী হয় বলে পরিণত পাতা ও অনুপপত্রিক। বোঁটা খুবই ছোট। নিবিড় পত্রবিন্যাসের জন্য কদম ছায়াঘন। শীত কালে কদমের পাতা পরে এবং বসন্তে কচি পাতা গজায়। সাধারণত পরিণত পাতা অপেক্ষা কচি পাতা অনেকটা বড়। কদমের কচি পাতার রঙ হালকা সবুজ। কদমের একটি পূর্ণ মঞ্জরিকে সাধারণত একটি ফুল বলে মনে করা হলেও আসলে তাতে বলের মতো গোল এর মধ্যে পুষ্পাধারে অজস্র সরু সরু ফুলের বিকীর্ণ বিন্যাস।মূল গোলকে প্রায় ৮০০০ র্পজন্ত ফূল বিন্যাস্ত থাকে। পূর্ণ প্রস্ফুটিত মঞ্জরির রঙ সাদা-হলুদে মেশানো হলেও হলুদ রং কেই মূলত দেখা যায়। প্রতিটি ফুল খুবই ছোট, বৃতি সাদা, দল হলুদ, পরাগচক্র সাদা এবং বহির্মুখীন, গর্ভদণ্ড দীর্ঘ। ফল টক এবং বাদুড় ও কাঠবিড়ালির প্রিয় খাদ্য। ওরাই বীজ ছড়ানোর বাহন হিসাবে কাজ করে।

বৃক্ষ পরিচিতিঃ-বড় বৃক্ষ জাতীয় উদ্ভিদ বাংলাদেশের সর্বত্র একে পাওয়া যায়।

ঔষধী ব্যবহার:-

(১) কোষবৃদ্ধিতে (Hydrocele)-কদম গাছের ছালকে (ত্বক্) চন্দনের মত বেটে কোষে লাগিয়ে তারপর কদমপাতা দিয়ে বাঁধতে হবে, তাহলে ব্যথা ও ফোলা দুই-ই কমে যাবে।

(২) শিশুদের কৃমিতে:- অনেকে এই পাতার রস খাইয়ে থাকেন, কিন্তু বয়সানুপাতে মাত্রা বেশী হলে বমি হতে পারে, এক্ষেত্রে সব থেকে নিরাপদ-পাতা শুকিয়ে গুঁড়ো করে খাওয়ানো। ৪/৫ বৎসরের শিশুদের ৩ গ্রেণ মাত্রায় সকালে একবার খাওয়ানো যায়; যদি না কমে তাহলে সকালে ও বিকালে ২বার দিতে হবে। সপ্তাহ মধ্যে উপদ্রব কমে যাবে। এটায় প্রত্যহ মলের সঙ্গে কিছু কিছু বেরিয়েও যাবে। এমনকি কেঁচো ক্রিমি বা গোল ক্রিমি (Round worm) ও সুতা ক্রিমি (Thread worm) বেরিয়ে যাবে

পাশ্চত্য চিকিৎসা বিজ্ঞানে ক্রিমিনাশক ঔষধের দু’টি ধারা আছে। এক শ্রেণীর ঔষধ পোকাগুলির জীবনক্রিয়াকে স্তব্ধ করে ( Metabolic poison) তাদের মৃত্যু ঘটায়; এদর বলা হয় ভারমিসাইডস্ (Vermicide).. এটির ব্যবহার কিন্তু সীমিত। আর এক শ্রেণীর ঔষধ-যেগুলি ক্রিমি কীটের মৃত্যু না ঘটিয়ে কীটগুলিকে অসাড় করে, ওদের ক্রিয়া অনেকটা নারকোটিক ধরণের; এগুলিকে বলা হয় ভারমিফিজেস্ (Vermifuges). আমাদের কদম পাতা এক্ষেত্রে শেষোক্ত ধরণের কাজ করে।

(৩) অর্বুদে (Tumour): কচি ছাল চন্দনের মত বেটে সহ্যমত গরম করে লাগালে কমে যেত থাকে, ব্যথা থাকলে সেটাও সের যায়।

(৪) মুখে গন্ধেঃ- যাঁদের মুখে মাঝে মাঝে দূর্গন্ধ হয়, তাঁরা কদম ফুল কয়েকটা নিয়ে কুচিয়ে কেটে পানিতে সিদ্ধ করে সেই পানি দিয়ে দিনে-রাত্রে কুল্লি করলে অবশ্যই তা দূর হয়।

(৫) শিশুদের মুখের ঘায়ে ও স্টোমাটাইটিসে (Stomatitis) কদম পাতা সিদ্ধ পানিতের কবল ধারণ (মুখের রাখা) বা কুল কুচায় শীঘ্র সেরে যায়। এই গাছের ছাল জ্বরে ব্যবহার হয় এবং টনিকেরও কার্য করে, এ ভিন্ন বহু রোগের ক্ষেত্রে এটির ব্যবহার করা হয়েছে।

নতুন তথ্যের সন্ধানেঃ- কদমগাছের ছালে (ত্বকে) সিনকোনার সহধর্মী দ্রব্য পাওয়া যায়, এটি পাশ্চত্য ভেষজ বিজ্ঞানীদের পরীক্ষিত। এই সিনকোনা ও কদমগাছ এ দু’টির ফ্যামিলি একই (Rubiaceae) এবং আলোচ্য বনৌষধিটি বিবশতাকারক, কদমছালের ট্যাবলেট জিয়ারডিয়ার(ডাইরিয়ার জিবানু) ক্ষেত্রে প্রয়োগ করলে ১০/১২ দিনের মধ্যে নেগেটিভ হয়ে যায়। তবে দেখা যায়- কচি ছালে উপকার বেশী হয়। ঋতুভেদে দ্রব্যের গুণ কম-বেশী হয়।

চরকঃ-

(১) ব্রণাচ্ছাদনার্থ কদম্ব পত্রঃ- কদম্বের পত্র দ্বারা ক্ষত আচ্ছাদিত করলে উপকার পাওয়া যায়।

(২) মুত্রের বৈবর্ণ্যে ও কৃচ্ছতায় কদম্বঃ- কদম্বের ক্বাথ ও গব্যদুগ্ধসহ যথাবিধি ঘৃত পান করলে মূত্রের বিবর্ণতা ও কৃচ্ছতা নিবৃত্তি পায়।

(৩)চক্ষুপ্রদাহঃ- কদম্বের ছাল জ্বরনাশক ও বলকারক। ইহার ছালের চূর্ণ, অহিফেন ও ফিটকিরি সমপরিমাণে মিশাইয়া অক্ষিকোটরের চতুর্দিকে দিলে চক্ষুপ্রদাহ আরাম করে।

(৪) মুখের ঘায়েঃ- কদম্ব পত্রের ক্বাথ ক্ষত ও মুখের ঘায়ে দিলে সেরে যায়।

(৫) বমনেঃ- কদম্ব ত্বকের রস জীরাচূর্ণ ও চিনির সহিত সেবনে শিশুর বমন নিবারিত হয়।

(৬) জ্বরের প্রবলাবস্থায়- যখন অতিশয় পিপাসা হয়, তখন কদম্বফলের রস সেবন করলে পিপাসা নিবারিত হয়।

(৭ বেদনায়ঃ- ,কোন স্থানে বেদনা, শুক্রশোধন ও বমনের জন্য কদম্ব নির্যাস হিতকর (চরক)

(৮) কদম্ব পাতার কল্কঃ- বালকদিগের মুখের ঘায়ে এবং যে কোন মুখের ঘায়ে ‘কুলি’ হিসাবে ব্যবহারে উপকার হয়।

অন্যান্য ব্যবহার: কদাম গাছের ডাল নরম ও দ্রুত র্বধনশীল বলে এই গাছ উৎকৃষ্ট জালানি হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এছাড়া এর পাতা গবদী পশুর খাদ্য হিসেবে ব্যবহার হয়। কদমের ফূল থেকে আতর তৈরির কাচামাল হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

3 টি মন্তব্য

  • গোলামে মাদানী আক্বা

    :present:
  • হিমাচল

    গ্রামের বাড়ীতে দেখছিলাম এক ‍বৃদ্ধা কদমফুল ভর্তা বানিয়ে খেত।
  • বাংলা ব্লগ

    আল্লাহ্ পাক উনার সমস্ত কিছু কোন না কোন কাজে আসেই সুবহান-আল্লাহ্!

মন্তব্য করতে হলে লগ ইন করুন।