আযাব গযব
*******************
চার শীর্ষ ব্যাংকের দ্বিধায় স্পষ্ট বৈশ্বিক অর্থনীতির দুর্বলতা
***********************************************************
বৈশ্বিক অর্থনীতি নিয়ে খুব বেশি আশাবাদী হতে পারছে না নীতিনির্ধারকরা। শীর্ষস্থানীয় চারটি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রণোদনা অব্যাহত থাকায় এমন আভাস মিলছে। যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, সুইজারল্যান্ড ও জাপানের কেন্দ্রীয় ব্যাংক এখনই সুদহার বৃদ্ধির জন্য যথেষ্ট আশাবাদী হতে পারছে না। খবর রয়টার্স। ফেডারেল রিজার্ভ, ব্যাংক অব ইংল্যান্ড (বিওই), সুইস ন্যাশনাল ব্যাংক (এসএনবি) ও ব্যাংক অব জাপানের (বিওজে) সিদ্ধান্ত-প্রণেতারা আগামী সপ্তাহে বৈঠকে বসছে। চার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্তাব্যক্তিরা পরস্পরের দু-একদিন আগে-পরে বৈঠক করলেও নতুন কোনো সিদ্ধান্ত তারা জানাবে বলে মনে হয় না। অগ্রসর অর্থনীতির চারটি দেশই মূল্যস্ফীতির লক্ষ্য অর্জনে হিমশিম খাচ্ছে। কিন্তু তার পরও তারা এ ব্যাপারে জোরালো কোনো পদক্ষেপ নিতে পারছেন না। ব্রিটেনের ইউরোপীয় ইউনিয়নে (ইইউ) থাকা না-থাকার পক্ষে প্রচারণা শেষ হচ্ছে আগামী সপ্তাহে। ২৩ জুন ব্রিটিশ ভোটাররা তাদের সিদ্ধান্ত জানাবে। ব্রিটিশ গণভোটকে দেখা হচ্ছে চলতি বছরের অন্যতম ঝুঁকিপূর্ণ ইভেন্ট হিসেবে। ব্রিটেন ইইউ ছাড়লে লন্ডন, ব্রাসেলস এবং সারা ইউরোপে কী হবে সে কথা ভেবে বিনিয়োগকারীরা উদ্বিগ্ন। ফেডারেল রিজার্ভ গভর্নর জ্যানেট ইয়েলেন ও তার সহকর্মীরা গত মাসে একাধিকবার বলেনে, আসন্ন গ্রীষ্মে সুদহার বাড়ছে। কিন্তু মার্কিন শ্রমবাজারের মে মাসের পরিসংখ্যান দেখে তারা আর সামনে এগোনোর ভরসা পাচ্ছে না। ব্রিটেনের গণভোট নিয়েও মার্কিন নীতিনির্ধারকদের হিসাব-নিকাশ কম নয়। সব মিলিয়ে এটা স্পষ্ট যে, ১৫ জুনের বৈঠকে ফেডের নীতিনির্ধারকরা আর যা-ই করুন, সুদহার বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নেবে না। বিশ্বজুড়ে অর্থবাজার-সংশ্লিষ্টরা থমকে আছে। এ কারণে বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধির ক্ষুধা মেটাতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর সঞ্চিত নিরাপত্তা জালে কামড় পড়ছে বলে মন্তব্য করে ক্রেডিট এগ্রিকোল করপোরেট অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংকিংয়ের (সিএ-সিআইবি) ভ্যালেন্টিন মারিনভ। সিএ-সিআইবির জি১০ এফএক্স স্ট্র্যাটেজির প্রধান সে। যুক্তরাষ্ট্রে খুচরা বিক্রি, আবাসন, মূল্যস্ফীতিসহ বেশকিছু উপখাতের পরিসংখ্যান আসছে এ সপ্তাহে। কমার্জব্যাংকের ক্রিস্টফ বালজ বলেছে, ইতিবাচক ছবি পেলে ফেড হয়তো সেপ্টেম্বরের পরিবর্তে জুলাইয়ে সুদহার বৃদ্ধি করবে। সে জানায়, কোনো অবস্থাতেই ফেডারেল রিজার্ভ জুনে সুদহার বৃদ্ধি করবে না। ব্যাংক অব ইংল্যান্ডের অবস্থাও ফেডের মতো। ইইউ গণভোটের আগে বিওই নীতি পরিবর্তনের ঝুঁকি নেবে না। বরং সম্ভাব্য ‘লিভ’ ভোটের প্রস্তুতি হিসেবে বাজারে তারল্যপ্রবাহ ধরে রাখতে কন্টিনজেন্সি পরিকল্পনা নেবে। ব্রিটেনের মূল্যস্ফীতি দশমিক ৪ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধির আভাস দেয়া হয়েছে। বলা হয়েছে, বেকারত্বের হার ৫ দশমিক ১ শতাংশে স্থির থাকবে। বেকারত্বের এমন হারকে শতভাগ কর্মসংস্থান বললে কৌশলগত ভুল হবে না। কিন্তু ব্রিটেনের অর্থনীতি বছরের শুরু থেকেই শ্লথ রয়েছে। অনেকের মতে, গণভোটের কাঁপুনিতে অর্থনীতির গতি কমেছে। এ অবস্থায় সুদহার বৃদ্ধির পরিবর্তে সুদহার হ্রাসের কথাই এখন আলোচনা হচ্ছে। জাপানে মূল্যস্ফীতির অবস্থা দুই দশক ধরেই ভালো নয়। অচিরেই মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধির কোনো আশা নেই। এজন্যই বিওজেকে ফেডের চেয়ে কিছুটা ভিন্ন পথে চলতে হচ্ছে।
ভারতের শিল্পোৎপাদনে অপ্রত্যাশিত পতন
******************************************
ম্যানুফ্যাকচারিংয়ের দুর্বলতার কারণে এপ্রিলে ভারতের সার্বিক শিল্পোৎপাদন কমে গেছে। অপ্রত্যাশিত এ পতন দেশটির অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার এখন পর্যন্ত একটি পোক্ত অবস্থানে না পৌঁছারই আভাস দিচ্ছে। খবর ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল ও দ্য হিন্দু। ম্যানুফ্যাকচারিং, খনি ও পরিষেবা খাতে কি পরিমাণ উৎপাদন হয়, তার ওপর নির্ভর করে সার্বিক শিল্পোৎপাদন। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের অর্থনীতিবিদরা জানিয়েছে, এক বছর আগের তুলনায় এপ্রিলে সার্বিকভাবে শিল্পোৎপাদন দশমিক ৮ শতাংশ কমেছে। অথচ পূর্বাভাসে অর্থনীতিবিদরা বলেছিলো, এ সময় শিল্পোৎপাদন দশমিক ৮ শতাংশ বাড়বে। মার্চ মাসে শিল্পোৎপাদন দশমিক ৩ শতাংশ বেড়েছিল। চলতি বছরের প্রথম তিন মাসের মধ্যে এপ্রিলেই প্রথম ভারতে শিল্পোৎপাদন কমল। স্টেট ব্যাংক অব ইন্ডিয়ার প্রধান অর্থনৈতিক উপদেষ্টা সৌম্য কান্তি ঘোষ জানায়, আইআইপির (ইনডেক্স অব ইন্ডাস্ট্রিয়াল প্রডাক্টশন) তথ্যগুলো খুবই হতাশাজনক। এদিকে আইআইপির ক্ষেত্রে ম্যানুফ্যাকচারিং খাতের অবদান তিন-চতুর্থাংশ। গত বছরের এপ্রিলে ভারতের ম্যানুফ্যাকচারিং খাতে ৩ দশমিক ৯ শতাংশ প্রবৃদ্ধি ছিল। অথচ চলতি বছরের একই সময়ে এসে তা ৩ দশমিক ১ শতাংশ সংকোচিত হয়ে পড়েছে। এ সময় মূলধনি পণ্যের উৎপাদন ২৫ শতাংশ কমে গেছে। এটা বিনিয়োগ পরিস্থিতির অব্যাহত নাজুক রূপই তুলে ধরছে। গত বছরের একই সময়ে দেশটির মূলধনি পণ্য উৎপাদন ৫ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়েছিল। এছাড়া ভোক্তা পর্যায়ের টেকসই নয় এমন পণ্যের উৎপাদন ৯ দশমিক ৭ শতাংশ কমে গেছে; যার প্রভাবে সার্বিক ভোক্তাপণ্যের খাতটিকেই নিম্নমুখী করে ফেলেছে।
যুক্তরাষ্ট্রে সমকামী নাইট ক্লাবে গুলিতে নিহত ৫০
নিউইয়র্ক:
**************************************************
যুক্তরাষ্ট্রের অরল্যান্ডো শহরে সমকামীদের একটি নাইট ক্লাবে বন্দুকধারীর সন্ত্রাসীর হামলায় কমপক্ষে ৫০ জন নিহত হয়েছে। নিহতের বিষয়টি পুলিশ নিশ্চিত করে জানিয়েছে, ওই হামলাকারীও নিহত হয়েছে। পালস্ নামে ওই ক্লাবটিতে রবিবার সকালে এই হামলার ঘটনা ঘটে। পুলিশ বলছে, ঘটনার প্রায় তিন ঘণ্টা পর তারা পালস্ ক্লাব নামে ওই নাইট ক্লাবটির ভেতরে ঢুকে আক্রমণকারীকে হত্যা করে । বন্দুকধারী লোকটির হাতে এ্যাসল্ট রাইফেল এবং হ্যান্ডগান ছিল এবং সে নাইটক্লাবের ভেতরে অনেককে জিম্মি করেছিল। নিহত হবার আগে পুলিশের সাথে তার গুলিবিনিময় হয়। পুলিশ বলছে, বন্দুকধারী একা ছিল এবং সে স্থানীয় কেউ নয়। গতকাল শনিবার অরল্যান্ডোতে লাইভ কনসার্টে গায়িকাকে গুলি করে হত্যার রেশ কাটতে না কাটতেই এ হামলা চালানো হল। অরল্যান্ডোতে লাইভ কনসার্টের স্থান থেকে পালস্ নাইট ক্লাবের দূরত্ব ৪ মাইল। পুলিশ বলছে, এটি ‘সন্ত্রাসী হামলা’ ছিল। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায় এই হামলায় অন্তত আরো ৪২ জনের মত আহত হয়েছে। অরল্যান্ডোর পুলিশ প্রধান জন মিনা বলেছে, নিহতের প্রকৃত সংখ্যা তারা বলতে পারছেন না। তবে ধারণা করা হচ্ছে অন্তত ৫০ জন নিহত হয়েছেন। ৪২ জনকে স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআইয়ের একজন মুখপাত্র বলেছে, প্রাথমিক ধারণায় এটিকে সন্ত্রাসী হামলায় মনে হচ্ছে। এটি স্থানীয় সন্ত্রাসী নাকি আন্তর্জাতিক কোনো সন্ত্রাসী গোষ্ঠি করছে তারও তদন্ত শুরু হয়েছে। এফবিআই মুসলমানদের উপর সন্দেহ পোষণ করে ধারণা করছে, এটি ইসলামি চরমপন্থিদের(!) দ্বারা ঘটতে পারে। টুইটারে পোস্ট করা একটি ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে যে, ফ্লোরিডার অরল্যান্ডো শহরে অবস্থিত ওই ক্লাবটির বাইরে আহত ব্যক্তিদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। জরুরি সেবা প্রদানের বিভিন্ন যানবাহন ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়েছে। হামলার সময় সমকামীদের ওই ক্লাবটিতে ১০০ জনেরও বেশি মানুষ অবস্থান করছিলো বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন। হামলার পরে ক্লাবটি থেকে বেশকিছু মানুষ দৌড়ে পালিয়ে যেতে সক্ষম হলেও অনেকেই ভেতরে আটকা পড়েছে। সূত্র: বিবিসি, দা গার্ডিয়ান
0 টি মন্তব্য
এখনো কোনো মন্তব্য নেই।
মন্তব্য করতে হলে লগ ইন করুন।