সবুজ বাংলা ব্লগ

সবুজ বাংলা ব্লগ

পরামর্শ

ড্রেস কোড..........................

আমি আজ বলতে চাই কেউ ধূতি পড়তে পারবেন না। হোক সে হিন্দু বা অন্য যেকোন ধর্মের ইচ্ছা। কারণ ধূতি নেংটির মত দেখায় এবং পার্শ্ববর্তী সবাইকে বিব্রত করে, সামাজিক ড্রেস কোড ক্ষূন্ন হয়। এক ব্যক্তি ধূতি পড়ে পার্শ্ববর্তী সবাইকে বিব্রত করে। সূতরাং হাইকোর্টের অর্ডার দেয়া উচিত যেন দেশে ধূতি পড়া নিষিদ্ধ হয়। কি অবাক হচ্ছেন? ভাবছেন এতো সাম্প্রদায়িক লেখা। কৌশলে সামাজিক অধিকার বা তথাকথিত সামাজিক ড্রেস কোডের কথা বলে হিন্দুদের ধর্মীয় অধিকার বা ব্যক্তি স্বাধিনতা ক্ষুন্ন করছি? হ্যা “দিস ইস সেক্যুলার কান্ট্রি”, না এটা আমার কথা নয়, এটি সর্বোচ্চ আদালতের বিচারকের কথা। হ্যা, সেক্যুলার কান্ট্রি মানে ইসলাম ধর্মীয় বিধান বাদ দিতে হবে, কিন্তু হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান বা নাস্তিকদের বিরুদ্ধাচারণ করা যাবে না। এটাই সেক্যুলারিজম। যাকগে সে কথা। অন্যকথায় আসি, জৈষ্ঠের তীব্র গরমের এক ঘটনা বলি। ফ্যানের তলায় দরদর করে ঘামছে সবাই। ঢাকা জজ কোর্টে আবার জেনারেটরের ব্যবস্থা নেই। কিন্তু হায়! এর মধ্যে চলে গেল কারেন্ট। এক কোর্টে শত শত মানুষ। কি উপায়? কোন উপায় নেই। কোর্টের কাজ তো কারেন্ট আর গরমে জন্য বন্ধ থাকবে না। কোর্টের যা নিয়ম তা মানতেই হবে। ম্যাজিস্ট্রেট আর উকিলদের জামা বা পোষাকের উপর কোর্ট পরতেই হবে। উফ কি গরম। কিন্তু তাতেও হবে না। এর উপর পরতে হবে সিল্কের কারপরের আরো এক ঢোলা পোষাক যা মাটি পর্যন্ত লম্বা। এত গরমে মধ্যে অনেক উকিল আর ম্যাজিস্ট্রেটের দেখলাম মেজাজ খিটমিটে হয়ে গেছে। পোষাকের উপর রেগে  কিন্তু লাভ নেই। এটা তো শারীরিক নির্যাতন নয়, এটা তো ড্রেস কোড। এখানে তো হাইকোর্টে রিট করতে পারবেন না, আজ থেকে শত বছর আগে শীতের দেশের ব্রিটিশরা কি শিখিয়ে গেছে এটা কি গরমে দেশ বাংলাদেশে মানতে হবে? না, যতই গরমেই সিদ্ধ হতে হোক কিছুতেই অন্য পোষাক পরা যাবে না, কোর্টের ড্রেস কোড বলে কথা। এবার ড্রেস কোড থেকে বেরিয়ে আসি। সবাই বলে শিক্ষক নাকি বাবার মত। তার উপর যদি সনামধন্য (!) কোন ইউনিভার্সিটির টিচার তাহলে কোন কথাই নেই। সে কি খারাপ হতে পারে? কত উচ্চমনের তিনি। তিনি কি খারাপ চোখে তাকাবেন। তাইতো খোলামেলা ড্রেস কোড পড়ে ছাত্রী যায় শিক্ষকের কাছে। আর সেই ড্রেস কোড দেখে সনামধন্য শিক্ষকের ভালমানুষিক ড্রেস কোড খুলে যায়। ফল¯্রুতিতে...... দেখলেন ড্রেস কোড থেকে বের হয়েও হতে পারছি না। এবার একটু ব্রিটেনের ড্রেসকোডে আসি একটা খবরের মাধ্যমে, যুক্তরাজ্যের কয়েকটি স্কুলে মেয়েদের মিনি স্কার্ট পরা নিষিদ্ধ করা হয়েছে কর্তৃপক্ষ। তাদের দাবি, হাঁটুর ওপরে স্কার্ট পরা মেয়েদের স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তার জন্য হুমকি, আর তাই স্কুল কর্তৃপক্ষ এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এব্যাপারে অভিভাকরা খুব সচেতন। কেন্ট হারনে বে হাই স্কুলের অভিভাবকরাই তাই স্কুলের প্রধান শিক্ষকের কাছে একটি চিঠি দেন। ওই চিঠিতে বলা হয়, হাঁটুর ওপর স্কার্ট পরা মেয়েদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। এ কারণে তারা যৌন হয়রানির শিকারও হচ্ছে। তারা সতর্ক করে দেন যদি শিক্ষার্থীদের হাঁটুর চার ইঞ্চি ওপরে স্কার্ট পরতে বাধ্য করা হয়, তাহলে অভিভাবকরা তাদের ট্রাউজার পরিয়ে স্কুলে পাঠাবেন। আর গার্ডিয়ানদের এ সিদ্ধান্তকে মেনে নেয় কেন্টের স্কুল কর্তৃপক্ষ। আমি খবর পড়ে একটু ভাবনায় পড়লাম..... যে দেশে চরম বেপর্দা বেহায়া, লিভটুগেদারের ছড়াছড়ি সেখানে সন্তানদের সু-কালচারে আনতে গার্ডিয়ানদের কতচেষ্টা। সর্বশেষ রাজউকের ড্রেস কোড অধ্যক্ষ এবং সেই বিচারক সাহেবকে (যে রায় দেয় বোরকা পরতে বাধ্য করা যাবে না) বলছি, মারা যাওয়ার পর কিন্তু আপনাকে ধর্মীয় ড্রেস কোড মানতে হবে। কাফন দিয়ে আপনার মুখ-চোখ-সারা শরীর ঢেকে দেয়া হবে, সুন্নতি কোর্তা পড়তে হবে, সিলাই বিহীন লুঙ্গি পড়তে হবে, তখন কিন্তু ধর্মীয় পোষাক পরতে নাক সিটকাতে পারবেন না। তাই আগে থেকেই বলে যান, হাইকোর্টে রুল মেনে ধর্মীয় পোষাক পড়তে বাধ্য করা যাবে না। তখন আপনাকে কাফনের বদলে আপনার পদ্ধতি মেনেই ড্রেস কোড দেয়া হবে..................    

3 টি মন্তব্য

  • কুমিল্লাবাসী

    আপনার লেখাটা ভাল লাগলো লেখাটা সামুতে দিছি
    http://www.somewhereinblog.net/blog/kyosirpor13/29551838
  • সুলতান

    খুবই সুন্দর করে পরিচ্ছন্ন লেখনীর জন্য শুকরিয়া...
    অনেক ভাবুক লেখা...
  • সাল সা বিল

    চমৎকার পোষ্ট.

মন্তব্য করতে হলে লগ ইন করুন।