বাংলাদেশ সরকারের যে কোন কাজ করার পূর্বেই মনে রাখা দরকার এদেশের ৯৭ভাগ জনগোষ্ঠী মুসলমান। আর যে কোন কাজের আগে ও পরে আরো মনে করা দরকার যে, সবার জন্য মৃত্যু অবধারিত। তথা আখিরাত।কবর, হাশর-নশর, মীযান, পুলসিরাত ইত্যাদি। দু'দিনের দুনিয়ায় দু'টাকার মন্ত্রী, এমপি, জজ, বেরিস্টার হয়ে পুর্বোল্লিখিত বিষয় গুলা বেমালুম ভুলে যাওয়া বিস্ময়কর বেপার না হলেও বুদ্ধিমানের কাজ না। সহসাই মনে রাখতে হবে, এই দুনিয়াতে আমাদেরকে মন্ত্রী-এমপি গিরি করে সু-খ্যাত হতে পাঠানো হয়নি বরং মহান আল্লাহ পাক রব্বুল আলামীনের পক্ষ থেকে অবতীর্ণ সম্মানিত বিষয়সমূহকে গুরুত্ব দিয়ে আখিরাতে নিজের উন্নত অবস্থান নিশ্চিত করার জন্য পাঠানো হয়েছে। যাহোক এখন কথা হল, আমাদের সু (shoe)-খ্যাত সরকারী কত্তাব্যক্তিরা ইদানিং বিভিন্ন জাতীয় দিবস যেমন: বিজয় দিবস, স্বাধীনতা দিবস, আসছে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে আকর্ষণীয় স্মারক নোট প্রকাশ করার উদ্যোগ নিয়েছে এবং নিচ্ছে। যদিও খেলার মাঠে হিন্দী গানের আসর করে মাতৃভাষা কে অবমাননা করছে তথাপি তাদের এই উদ্যোগ দেশপ্রেমের কিঞ্চিত আলামত বহন করে। হোক তা, এতে আমার কেন কারোরই কোনো আপত্তি নেই (রাজাকার, আল-বদর ছাড়া)। তবে হ্যাঁ, যবন রবী ঠাকুরের স্মরণে স্মারক নোট প্রকাশের চিন্তা-ভাবনা বা কর্ম- চিন্তুক, ভাবুক এবং কর্মকারের জন্য যার পর নাই অযাচিত হবে।

এবার আসুন এ স্তর থেকে উপরের স্তরে যাই। বর্তমানে সাইয়্যিদুশ শুহুর, মহা পবিত্র রবীউল আউয়াল শরীফ আমাদের মাঝ দিয়ে অতিক্রম করছে। যে মাসে রয়েছে সর্বশ্রেষ্ঠ ঈদ, পবিত্র ঈদে মীলাদুন নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বা সাইয়্যিদুল আ'ইয়াদ শরীফ।  আজকে স্বাধীনতা দিবস, বিজয় দিবস, মাতৃভাষা দিবস এর সম্মানার্থে যে স্মারক নোট প্রকাশ করতে হয়, উক্ত দিবস সমূহকে যে সম্মান করতে হয়, এক কথায় দেশপ্রেম থাকতে হয়, না করলে বা না থাকলে যে ক্ষতির সম্মুখিন হতে হয়- এই যে মূল্যবোধ, এই যে দেশাত্মবোধ, এই যে দেশপ্রেমী চেতনা- এসব আমরা তথা ৯৭ভাগ মুসলমান বা তাদের সরকার কোথায় পেল? নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্রাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উনার পুত:পবিত্র কন্ঠ মুবারকে ঘোষণা দিয়েছেন যে, 'দেশপ্রেম ঈমানের অঙ্গ'।

বলার অপেক্ষাই রাখেনা, উনার উক্ত বাণী মুবারক থেকেই পূর্বের এবং বর্তমানের বাঙালী মুসলমান জাতি উক্ত দেশাত্মবোধ, দেশপ্রেমী চেতনা বা মূল্যবোধ অর্জন করেছে। যার কারণে তারা '৭১-এ ধর্মব্যবসায়ীদের বাঁধা সত্ত্বেও উক্ত বাণী মুবারকে অনুপ্রানিত হয়ে এ দেশকে স্বাধীন করেছে। অর্থা‍‍‍‌ত, আল্লাহ পাক এবং হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্রাম উনার অসীম দয়া-ইহসানেই বাংলাদেশের মানুষ স্বাধীনতা পেয়েছে, মাতৃভাষার বিজয় ছিনিয়ে আনতে পেরেছে। সুতরাং, উনার অনুগ্রহ অস্বীকার করার অর্থই হবে স্বাধীনতাকে অস্বীকার করা, মাতৃভাষার মর্যাদাকে অস্বীকার করা।

তাহলে যাঁর অমীয় বাণীতে অনুপ্রাণিত হয়ে আজকে মানুষ দেশপ্রেমের মত নিয়ামত পেয়েছে, তিনি যে দিনে এই পৃথিবীতে স্বশরীর মুবারকে আগমণ করেছেন- সেদিনের সম্মানার্থে কেন সরকারের কোনো উদ্যোগ নেই? সে দিন কে স্মরণ করে কেন 'স্মারক নোট' বের করার উদ্যোগ নেই? তাহলে কি এদেশের সরকার স্বাধীনতা পেয়ে কৃতজ্ঞ নয়? মাতৃভাষায় কথা বলার অধিকার পেয়ে আনন্দিত নয়?

তবে হ্যাঁ, মনে রাখতে হবে যে, স্মারক নোট প্রকাশ হোক বা অন্য যে কোন শরীয়ত সম্মত উদ্যোগই হোক, তা মূলত: সাইয়্যিদুল আ'ইয়াদ শরীফের শ্রেষ্ঠতা বাড়ানোর বা শ্রেষ্টতা দেয়ার জন্য নয়। কেননা, সাইয়িদুল আ'ইয়াদ শরীফ কারো সম্মান দেখানোর মুখাপেক্ষী নয়। তা করতে হবে মূলত: নিজেদের পার্থিব জীবনের ক্ষমতা, যোগ্যতা, সুযোগ-সুবিধাকে কাজে লাগিয়ে পরকালে নিজের উন্নত জীবন নিশ্চিত করার জন্যই। কারণ, এই মন্ত্রীগিরি আর এমপি গিরি আর জজগিরি পরকালে চলবে না। কাজেই সুযোগের সদ্ব্যবহার যে করতে পারবে তার জীবনই স্বার্থক হবে।

পরিশেষে বলতে চাই, স্মারক নোট উদ্দেশ্য নয়। বেয়াদবী হয়না এরুপ সকল ব্যাপক পন্থায়ই চেষ্টা করতে হবে সাইয়্যিদুল আ'ইয়াদ শরীফ তথা পবিত্র ঈদে মীলাদুন নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে সম্মান দেখিয়ে নিজের নাযাতের পথ সুগম করা। এ ব্যাপারে যিনি যুগের অতুলনীয় আল্লাহ পাকের লক্ষ্যস্থল ব্যক্তিত্ব- উনার পরামর্শ গ্রহণের বিকল্প নেই।